অনলাইন ডেস্ক:
‘ধুরন্ধর’ সিনেমার ‘শরারত’ আইটেম গান দিয়ে আলোচনায় আসা বলিউড অভিনেত্রী আয়েশা খানকে মুম্বাইয়ে শিক্ষার্থীদের এক বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে আটক করেছে পুলিশ। গত বুধবার (২৩ জুলাই) মুম্বাইয়ের দাদারে আয়োজিত শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের স্থান থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে ঘটনাটির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে বেশ কয়েকটি ভিডিও বার্তা ও পোস্ট শেয়ার করেন তিনি। সেখানে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে সাধারণ একটি প্রশ্ন তুলেছেন—‘শুধু বলুক, আমাদের আটক কেন করা হলো?’
প্রতিবাদের আগেই আটক!
আয়েশা খানের ভাষ্যমতে, দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া শিক্ষার্থী আন্দোলনের সমর্থনে বুধবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে তিনি দাদার এলাকায় পৌঁছান। কিন্তু তিনি কোনো ব্যানার প্রদর্শন বা স্লোগান দেওয়া শুরু করার আগেই এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে জানান যে সেখানে কোনো ধরনের প্রতিবাদ সমাবেশ করা যাবে না।
আয়েশা তখন পুলিশকে জিজ্ঞেস করেন, “অন্য কোথায় প্রতিবাদ করা যাবে তা আমাদের জানিয়ে দিন।” কিন্তু তার অভিযোগ, কোনো জবাব দেওয়ার আগেই পরিস্থিতি দ্রুত ঘোলাটে রূপ নেয়।
প্রিজন ভ্যানে তোলার অভিযোগ
ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ভিডিও বার্তায় আয়েশা জানান, নারী ও পুরুষ কর্মকর্তা মিলিয়ে প্রায় ১৫ জন পুলিশ সদস্য তাদের দলকে ঘিরে ধরেন এবং জোরপূর্বক পুলিশের ভ্যানে ওঠার নির্দেশ দেন।
বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন জানিয়ে আয়েশা বলেন, “আমাকে ৪-৫ জন নারী পুলিশ সদস্য ধরে টেনে-হেঁচড়ে ভ্যানে তোলেন। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম যাতে ভ্যানে উঠতে না হয়, কিন্তু তারা জোর করে আমাদের তুলে নেয়। পুরো পথজুড়ে আমরা ভ্যানের ভেতরে পুলিশকে জিজ্ঞেস করতে থাকি—আমাদের কেন আটক করা হয়েছে? আমরা কী ভুল করেছি? কিন্তু কেউ কোনো উত্তর দেয়নি। কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। আমাদের দাদার থেকে দূরে ওরলি পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়।”
তবে ওরলি থানার পুলিশ সদস্যরা তাদের সাথে সম্মানজনক আচরণ করেছেন উল্লেখ করে আয়েশা জানান, সেখানে পৌঁছানোর পরও তিনি আটক করার কোনো আইনি ব্যাখ্যা পাননি। কোনো বিক্ষোভ শুরু করার আগেই কেন তাদের আটক করা হলো—এই প্রশ্নটির উত্তর এখনো তিনি পাননি।
‘শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে থাকা কি এখন অপরাধ?’
ইনস্টাগ্রামে প্রিজন ভ্যানে তোলার একটি ভিডিও শেয়ার করে এই অভিনেত্রী লেখেন, “শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য আমাকে রাস্তায় টেনে-হেঁচড়ে আটক করা হলো। সেখানে উপস্থিত প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে জিজ্ঞেস করেছি আমাদের কেন আটক করা হচ্ছে? কিন্তু একটি উত্তরও পাইনি! রাস্তায় কেবল দাঁড়িয়ে থাকা কবে থেকে অপরাধ হয়ে গেল?”
তিনি আরও লেখেন, “আজ রাতে আমি জীবনের সবচেয়ে শান্তিতে ঘুমাব, কারণ আমি সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছি। এখনো থানায় বসে একই প্রশ্ন করছি—আমাকে কেন আটক করা হলো? আমি কোন আইন ভেঙেছি? মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা করা তো দূরের কথা, তোমরা নিজেদের নাগরিকদেরই ক্ষতি করছ! কিসের জন্য? আমি কিছু পুলিশ সদস্যের চোখে লজ্জা দেখতে পেয়েছি, কিন্তু তারা তাদের দায়িত্বের কাছে বাধ্য। তবে আমার অবস্থান একদম স্পষ্ট—আমাদের প্রশাসনিক জবাবদিহিতার তীব্র অভাব রয়েছে। তবুও আমি আশা রাখি, আমরা একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ দেখব।”
নেপথ্য কারণ
উল্লেখ্য, ভারতের নতুন শিক্ষানীতি ও নিট (NEET) পরীক্ষা সংক্রান্ত নানা অনিয়মের অভিযোগে রাজধানী নতুন দিল্লি থেকে শুরু হওয়া শিক্ষার্থী বিক্ষোভ এখন মুম্বাইসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বাইয়ের শিবাজী পার্ক, চৈত্যভূমিসহ বেশ কয়েকটি স্থানে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামেন। বহু আন্দোলনকারীর অভিযোগ, তারা সমাবেশস্থলে পৌঁছানোর আগেই পুলিশ তাদের আটক করছে।
মন্তব্য করুন