“ভুয়া ভুয়া!”, “তুমি কে আমি কে? বয়লার, বয়লার!”, “কে বলেছে? কে বলেছে? শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী!” — গতকাল ঢাকা ও ঢাকার বাইরে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে আজও রাজধানীর উত্তরার বি এন এস (BNS) সেন্টারের সামনে স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত পুরো এলাকা।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাজধানীর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আজ দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তাল হয়ে উঠেছে উত্তরার রাজপথ। ঢাকা সিটি কলেজ এবং ক্রেডেন্স কলেজের ইউনিফর্ম পরিহিত শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে রাস্তা অবরোধ করে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও পরীক্ষা পদ্ধতির চরম অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীরা সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলেছেন।
বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, পরীক্ষা শুরুর আগেই রুটিন নিয়ে বিভ্রান্তি এবং পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর বিষয়ে অস্পষ্ট সিদ্ধান্ত তাদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। তাদের দাবি, পাঠ্যবই ও শিক্ষা পদ্ধতি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটের হলেও, পরীক্ষার প্রশ্ন ‘আমেরিকান স্টাইল’-এ করার ফলে তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য দুর্বোধ্য হয়ে পড়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন প্রশ্ন করে শিক্ষার্থীদের কেন বিপদে ফেলা হচ্ছে?
এদিকে, টানা দুদিনের এই অবরোধের ফলে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় সাধারণ মানুষের গাড়ি চলাচল থমকে গেছে, যা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের দ্রুত এবং যৌক্তিক সমাধান না হলে দেশ বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিশিষ্টজনরা শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য দাবিগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে তা মেনে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তারা কোনো আপস করতে রাজি নন। শিক্ষাব্যবস্থায় এই অসংগতি ও অব্যবস্থাপনার দায়ভার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। উত্তরার বি এন এস সেন্টারের সামনে শিক্ষার্থীদের এই রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি এখনো অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন