আব্দুর রাজ্জাক বাপ্পী ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলার শুখানপুখুরী ইউনিয়নের ধনীপাড়া (মাস্টারপাড়া) গ্রামের মাঝখানে গড়ে ওঠা একটি বাণিজ্যিক মুরগির খামারের দুর্গন্ধ ও মাছির উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খামার থেকে নির্গত তীব্র দুর্গন্ধ এবং মুরগির বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ না করায় সারাক্ষণ মাছির উপদ্রব লেগেই থাকে। এতে ঘরে বসবাস, রান্নাবান্না, খাবার গ্রহণ, এমনকি শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাভাবিক জীবনযাপনও কঠিন হয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধে জানালা-দরজা খুলে রাখা যায় না এবং পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খামারটির মালিক খাদেমুল ইসলাম (পিতা: সমশের আলী)। খামারটি গ্রামের আবাসিক এলাকার মাঝখানে অবস্থিত হওয়ায় এর প্রভাব আশপাশের শত শত পরিবারের ওপর পড়ছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ পরিবার এ সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
এলাকাবাসী জাহাজাহান আলী বলেন, “মুরগির খামারের দুর্গন্ধে আমাদের স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মাছির উপদ্রব এত বেশি যে ঘরের খাবার ঢেকে রাখলেও রক্ষা পাওয়া যায় না। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
স্থানীয় বাসিন্দা সবুজ মোল্লা বলেন, “দিন-রাত দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। বহুবার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।”
নাজমুল মোল্লা বলেন, “খামারের কারণে পুরো এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এভাবে আবাসিক এলাকার মধ্যে খামার পরিচালনা করা ঠিক নয়। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক, যাতে সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে বসবাস করতে পারে।”
এ বিষয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা খামারটি পরিবেশসম্মতভাবে পরিচালনা অথবা প্রয়োজন হলে উপযুক্ত স্থানে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে খামারের মালিক খাদেমুল ইসলাম বলেন, “আমার খামারের পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। আমি একজন উদ্যোক্তা এবং নিয়মিত সরকারকে কর (ট্যাক্স) পরিশোধ করি। আমার খামার বৈধভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। আপনারা সংবাদ করতে চাইলে করতে পারেন।”
তবে এলাকাবাসীর অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি।
ভূল্লী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মন্তব্য করুন