হাইতির বিপক্ষে উজ্জীবিত পারফরমেন্স দেখিয়ে শেষ ৩২-এ ওঠার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেলেও, বিশ্বকাপে ব্রাজিল এখনও তাদের সেরা রূপে পৌঁছাতে পারেনি। শুক্রবার ফিলাডেলফিয়ায় ৩-০ গোলের জয় তাৎক্ষণিক চাপ কমিয়েছে, তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দলটি কেমন করবে, সেই প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে।
হাইকির বিপক্ষে জয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল গ্রুপ সি’-তে শীর্ষে উঠে এসেছে। অন্যদিকে,৫২ বছর পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলা হাইতির যাত্রা শেষ হয়ে গেছে গ্রুপ পর্বেই।
যদিও প্রতিপক্ষ তুলনামূলক দুর্বল ছিল, তবুও এই জয় কোচ কার্লো আনচেলত্তির জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে নিষ্প্রাণ ১-১ গোলে ড্রয়ের পর ব্রাজিলে তিনি ব্যপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
ব্রাজিল আক্রমণে আরও ধারালো ফুটবল খেলেছে এবং পরের রাউন্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছে, কিন্তু শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে তাদের সামর্থ্য নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে।
আনচেলত্তি বলেন, “আমরা যেকোনো দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে পারি। সেটা হাইতি হোক বা ফ্রান্স, আমাদের সেই মানের খেলোয়াড় রয়েছে।”
বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে নিজের প্রথম জয় পাওয়ার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।
মরক্কোর বিপক্ষে খেলা দল থেকে দুটি পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্তও সফল হয়েছে। বিশেষ কওে মাথিয়াস কুনহাকে ইগর থিয়াগোর পরিবর্তে আক্রমণভাগে নামানোর সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ফরোয়ার্ড ম্যাচের প্রথম দুটি গোল করেন, যা ছিল বিশ্বকাপে তার প্রথম গোল। শুধু গোল করাই নয়, একটু নিচে নেমে খেলা তৈরি করার ক্ষমতাও ব্রাজিলের আক্রমণে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। মরক্কোর বিপক্ষে যে সৃজনশীলতার অভাব ছিল, তা অনেকটাই দূর হয়।
সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোতে ব্রাজিলের স্ট্রাইকারদের জন্য খুব একটা সৌভাগ্য বয়ে না আনা ৯ নম্বর জার্সি পরে খেলেও কুনহা দারুণ সফল ছিলেন। ব্রাজিলের উন্নত মানের ফুটবলের সামনে লড়াকু হাইতি শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি। ভিনিসিয়াস জুনিয়র এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের সেরা পারফর্মার। প্রথম গোলে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি দ্বিতীয় গোলটি তৈরি করে দেন তিনি এবং তৃতীয় গোলটি নিজেই করেন।
তবে আনচেলত্তি সতর্ক করে দেন যে ব্রাজিলের সব আশা একমাত্র ২৫ বছর বয়সী এই তারকার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। তিনি বলেন, “আমরা চাই না এটি শুধু ভিনিসিয়াসের বিশ্বকাপ হোক; আমরা চাই এটি ব্রাজিলের বিশ্বকাপ হোক।”
তবুও আক্রমণভাগের নতুন বোঝাপড়া আনচেলত্তিকে আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। বুধবার মিয়ামিতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। সেই ম্যাচেই চোট থেকে ফিরে আসতে পারেন নেইমার। এমন ইঙ্গি দিয়েছেন আনচেলত্তি। পাশাপাশি ম্যাচটি গ্রুপের শীর্ষস্থান ও পরবর্তী পর্বে ওঠার ভাগ্যও নির্ধারণ করবে।
হাইতির বিপক্ষে জয় ব্রাজিলকে আরেকটি ইতিবাচক দিকও উপহার দিয়েছে। সাত ম্যাচের মধ্যে প্রথমবারের মতো তারা কোনো গোল না খেয়ে ম্যাচ শেষ করেছে।
আনচেলত্তি বলেন, “আমরা এই ম্যাচ থেকে যা আশা করেছিলাম, সেটাই পেয়েছি। উন্নত মানের খেলা, কম ভুল, আক্রমণে বেশি কার্যকারিতা এবং রক্ষণে আরও ভালো নিয়ন্ত্রণ।”
ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় ছিল রাফিনিয়ার ইনজুরি। বার্সেলোনার এই উইঙ্গার হ্যামস্ট্রিং সমস্যার কারণে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।
আনচেলত্তি জানান, আগামীকাল দলের চিকিৎসকরা তার অবস্থা মূল্যায়ন করবেন। তবে ভিনিসিয়াস ইঙ্গিত দেন, এটি হয়তো মৌসুমজুড়ে তাকে ভোগানো পুরোনো চোটের পুনরাবৃত্তি।
মিডফিল্ডার লুকাস পাকুয়েটা বলেন, “সে কিছুটা মন খারাপ করে আছে। আমরা আশা করছি বিষয়টি গুরুতর নয়, অথবা যতটা সম্ভব সামান্য। কারণ সে আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়।”
রাফিনিয়া খেলতে না পারলে সুযোগ পেতে পারেন ব্রাজিলের দুই প্রতিভাবান ১৯ বছর বয়সী ফুটবলার রায়ান ও এনড্রিক।
মন্তব্য করুন