দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্সেনাল। মঙ্গলবার সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে এ্যাথলেটিকো মাদ্রিদকে ১-০ গোলে পরাজিত করে দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ফাইনালে উঠেছে গানার্সরা। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছেন বুকায়ো সাকা।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে উচ্ছ্বসিত দর্শকদের সামনে প্রথমার্ধের শেষদিকে সাকার গোলে ফাইনালের টিকেট পায় মিকেল আর্তেতার দল। গত সপ্তাহে মাদ্রিদে প্রথম লেগের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল।
আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টে ফাইনালে আর্সেনালের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখের মধ্যে আজ রাতে অপর সেমিফাইনালের লড়াইয়ের পর। গত বছরের সেমিফাইনালে আর্সেনালকে হারানো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি মিউনিখে দ্বিতীয় লেগের আগে ৫-৪ ব্যবধানে এগিয়ে আছে।
২০০৬ সালে একমাত্র ফাইনালে বার্সেলোনার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল আর্সেনাল। ঐ ম্যাচের পর এই প্রথম ফাইনালে উঠলো আর্সেনাল। যে কারনে এটি তাদের জন্য এক আবেগঘন রাত ছিল।
আর্সেনাল কখনোই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে পারেনি। ইউরোপে তাদের দুটি বড় শিরোপা হলো ১৯৯৪ সালের কাপ উইনার্স কাপ এবং ১৯৭০ সালের ইন্টার-সিটিজ ফেয়ার্স কাপ।
২০১৯ সালের ইউরোপা লিগে সর্বশেষ ইউরোপীয় ফাইনাল খেলেছিল আর্সেনাল। ঐ ম্যাচটিতে চেলসির কাছে ৪-১ ব্যবধানে হেরে তাদের বিদায় নিতে হয়েছিল।
প্রিমিয়ার লিগ এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ- এই দুটি শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে এই মৌসুমটি আর্সেনালের ইতিহাসে সেরা হতে পারে। এমনকি ২০০৪ সালে অপরাজিত থেকে লিগ জয় করা আর্সেন ওয়েঙ্গারের ‘অজেয়’ দলকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বর্তমান দলটি, যদি তারা শেষ পর্যন্ত সফল হয়।
শিরোপা জয়ের থেকে মাত্র চার ম্যাচ দূরে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা আর্সেনাল শিরোপা দৌড়ে বড় সুবিধা পেয়েছে, কারণ দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি সোমবার এভারটনের সঙ্গে ড্র করে পয়েন্ট হারিয়েছে। ওয়েস্ট হ্যাম, বার্নলি এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে শেষ তিন ম্যাচ জিততে পারলে আর্সেনাল চ্যাম্পিয়ন হবে। লিগ শিরোপা নিশ্চিত হলে তারা প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের লক্ষ্যে হাঙ্গেরির পথে রওনা দেবে।
সব প্রতিযোগিতায় ছয় ম্যাচে চার হার এবং গত ছয় বছরে কোনো শিরোপা না জেতার হতাশা থেকে আর্সেনালকে বিদ্রুপ করা হচ্ছিল। কিন্তু ‘বারবার ব্যর্থ’ এই তকমাকে চিরতরে মুছে ফেলার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে আর্তেতার দল।
কাল খেলা শুরুর আগে হাজারো আর্সেনাল সমর্থক স্টেডিয়ামের বাইরে জড়ো হয়ে পতাকা ও ফ্লেয়ার নিয়ে দলকে স্বাগত জানায়। ইতিহাস গড়ার আকাঙ্খা তাদের মধ্যে স্পষ্ট ছিল।
প্রিমিয়ার লিগের শেষভাগে এসে কিছু হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর, শনিবার ফুলহ্যামের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয় তাদের সেরা ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে খেলা হয়তো ততটা দৃষ্টিনন্দন ছিল না, কিন্তু আর্সেনাল সমর্থকদের তাতে কোনো আপত্তি ছিল না।
দ্রুতগতির শুরুতে আর্সেনাল প্রায় সময়ই পাল্টা আক্রমণে বিপদে পড়েছিল। জুলিয়ান আলভারেজের শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। গিউলিয়ানো সিমিওনের পোস্টের কাছ থেকে নেওয়া শটও বাইরে চলে যায়। তবে সেই চাপ কাটিয়ে উঠে আর্সেনাল ৪৪তম মিনিটে গোল করে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। ভিক্টর গিয়োকেরেসের দারুন এক মুভে এ্যাথলেটিকোর রক্ষণ ভেঙে যায় এবং তার ক্রস পৌঁছে যায় লিয়ান্দ্রো টোসার্ডের কাছে। ট্রোসার্ডের নীচু শট ইয়ান ওবলাক রক্ষা করলেও ফিরতি বলে সাকা জালের ঠিকানা খুঁজে পান।
দ্বিতীয়ার্ধে এ্যাথলেটিকো সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস শেষ মুহূর্তে সিমিওনের শট ব্লক করেন। আঁতোয়ান গ্রিজমানের শক্তিশালী শট ডেভিড রায়া প্রতিহত করেন।
মন্তব্য করুন