টানা বৃষ্টিপাত কমে আসায় কিশোরগঞ্জের নদ-নদীর পানি নামতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বেশিরভাগ পয়েন্টে পানি কমলেও একটি পয়েন্টে সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে টানা মেঘলা আবহাওয়ার পর রোদ ওঠায় হাওরাঞ্চলে ফিরেছে স্বস্তি, প্রাণ ফিরে পেয়েছেন কৃষকরা।
বুধবার সকাল ৯টায় কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি কমে ৩.২৮ মিটারে দাঁড়িয়েছে। চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি ২.৯৫ মিটার। ভৈরব বাজারে মেঘনা নদীর পানি কমে ১.৬৪ মিটারে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি বেড়ে ২.৬৫ মিটারে পৌঁছেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার সব নদীর পানি এখনো বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৮৭ থেকে ৪১৬ সেন্টিমিটার নীচে রয়েছে।
তবে উজানের পানির চাপ ও বৃষ্টিপাত আবার বাড়লে নদ-নদীর পানি পুনরায় বৃদ্ধি পেয়ে নতুন করে ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন। এতে হাওরাঞ্চলের কৃষি ও জন-জীবনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে আকাশ পরিষ্কার হয়ে রোদ ওঠায় সারাদিন হাওরজুড়ে ফিরে আসে কর্মচাঞ্চল্য। ডুবে যাওয়া ক্ষেত ও খলায় স্তূপ করে রাখা ধান রক্ষায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আজ সকালেও রোদ থাকায় সেই ব্যস্ততা অব্যাহত রয়েছে-কেউ পানি থেকে ধান তুলছেন, কেউ আবার খলায় রাখা ধান শুকাচ্ছেন।
নিকলী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বাসস’কে বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। দ্রুত ধান কেটে নিরাপদে ঘরে তোলার পরামর্শও দেয়া হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বাসস’কে জানান, মাঠ পর্যায়ের সর্বশেষ তথ্যমতে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে ৫০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।
মন্তব্য করুন