
স্পোর্টস ডেস্ক | লিড নিউজ ২৪|
জাতীয় দলের জার্সিতে ওয়ানডে অভিষেকের আনন্দ ম্লান হতে না হতেই নতুন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাংলাদেশের রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। আফগানিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেই তাঁর বোলিং অ্যাকশনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) জানানো হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্যারিয়ার শুরুর পরপরই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছেন ২৯ বছর বয়সী এই অফ স্পিনার।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে আইসিসি জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় বুধবার (২১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে আলিসের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, এখন সংস্থাটির অনুমোদিত পরীক্ষাকেন্দ্রে আলিসের বোলিং অ্যাকশনের স্বাধীন মূল্যায়ন করা হবে। সেখানে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাঁর বোলিং অ্যাকশন নিয়মসম্মত কি না, তা নির্ধারণ করা হবে।
তবে বোলিং অ্যাকশন সন্দেহজনক হিসেবে রিপোর্ট হওয়ার অর্থ এই নয় যে সেটি ইতিমধ্যে অবৈধ প্রমাণিত হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগেও একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে আলিসের অ্যাকশন নিয়ে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে অভিষেক ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে আলোচনায় আসেন তিনি। কিন্তু সেই সাফল্যের পরপরই তাঁর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে অভিযোগ ওঠে।
পরবর্তী সময়ে অ্যাকশন নিয়ে কাজ করে আবারও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরেন আলিস। তবে ২০২৫ সালের বিপিএলেও চিটাগং কিংসের হয়ে খেলার সময় নতুন করে তাঁর বোলিং অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সেবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরীক্ষাকেন্দ্রে মূল্যায়নের পর বোলিং চালিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র পান তিনি।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলে জায়গা করে নেন এই স্পিনার। চলতি অক্টোবরের শুরুতে এশিয়ান গেমসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাঁর। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের দলে সুযোগ পান।
আলিসকে জাতীয় দলে নেওয়ার আগে তাঁর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সে সময় বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানিয়েছিলেন, আলিস নিয়মিত বোলিং করছেন এবং তাঁর অ্যাকশনে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি বলেই নির্বাচকেরা তাঁকে দলে রেখেছেন।
তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রথম ওয়ানডে খেলতে নেমেই আবারও একই বিতর্কের মুখে পড়লেন তিনি।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি আলিস। ৮ দশমিক ৩ ওভার বোলিং করে ৪৭ রান খরচ করলেও কোনো উইকেট পাননি তিনি। ম্যাচটিতে বাংলাদেশ ৪১ দশমিক ২ ওভারে মাত্র ১৬০ রানে অলআউট হয়। জবাবে আফগানিস্তান ৩৫ দশমিক ৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
৭ উইকেটের এই পরাজয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। এর আগে জিম্বাবুয়ের কাছেও হেরেছিল টাইগাররা। ফলে দুই ম্যাচে দুই পরাজয় নিয়ে খালি হাতেই টুর্নামেন্ট শেষ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
আইসিসির বোলিং অ্যাকশনসংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী, বল ছাড়ার সময় নির্ধারিত পর্যায়ে কনুই সোজা হওয়ার মাত্রা ১৫ ডিগ্রির বেশি হলে তা অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়। অনুমোদিত পরীক্ষাকেন্দ্রে বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে কোনো বোলারের অ্যাকশন অবৈধ প্রমাণিত হলে সংশোধন ও পরবর্তী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং থেকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে।এখন আলিসের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিজের বোলিং অ্যাকশনের বৈধতা প্রমাণ করা। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া এই স্পিনারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার কোন পথে এগোবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে আসন্ন পরীক্ষার ফলাফলের ওপর।
মন্তব্য করুন