ডেক্স রিপোর্টঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ মেইনস্ট্যান্ড সংলগ্ন যশোর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ‘মোস্তফা আবাসিক হোটেল’। বাইরে নাম তার আবাসিক হলেও, ভেতরে চলছে অনৈতিক ও অন্ধকার জগতের রমরমা কারবার। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই হোটেলে চলছে প্রকাশ্য অসামাজিক কার্যকলাপ। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই হোটেলের আড়ালে চলছে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দেহব্যবসা। এই পাপাচারের মূল হোতা হোটেলের মালিক মোঃ মোস্তফা হোসেন। দীর্ঘদিনের এই নোংরা কারবারে অতিষ্ঠ হয়ে এখন রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।
ঘণ্টা চুক্তিতে ঘর ভাড়া ও জিম্মি বাণিজ্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা বিস্ফোরক অভিযোগ করে জানান, মোস্তফা আবাসিক হোটেলের মূল ব্যবসাই হচ্ছে দূর-দূরান্ত থেকে অনৈতিক কাজের জন্য নারী-পুরুষ এনে ঘণ্টা চুক্তিতে রুম দেওয়া। শুধু তাই নয়, এর চেয়েও ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠেছে হোটেল মালিক মোস্তফার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসহায় নারীদের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এখানে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে তাদের জিম্মি করে, ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করা হয়। এই অন্ধকার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হোটেল মালিক প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের কালো টাকা।
স্থানীয়দের দাবি, মোস্তফা আবাসিকের এই অনৈতিক সাম্রাজ্যের কথা কালীগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের জানা। এর আগে একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ করা হলেও অজ্ঞাত কারণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতার সুযোগে হোটেল মালিক মোস্তফা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মহাসড়ক সংলগ্ন এমন একটি জনাকীর্ণ এলাকায় দিনদুপুরে কীভাবে এই ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দিনের পর দিন চলতে পারে, তা নিয়ে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
“আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ এই হোটেলের কারণে ধ্বংসের মুখে। আবাসিক হোটেলের নামে এখানে যা চলছে তা কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। আমরা অবিলম্বে এই ‘পাপের আখড়া’ সিলগালা করার দাবি জানাচ্ছি। প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে এই হোটেল বন্ধ করতে বাধ্য হবে।”
যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত এই হোটেলটি এখন পুরো কালীগঞ্জের জন্য একটি কলঙ্ক হিসেবে রূপ নিয়েছে। অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি এখানে মাদক ও অপরাধীদের আনাগোনাও বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অনতিবিলম্বে এই হোটেলে টাস্কফোর্স বা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে সত্যতা যাচাই সহ অপরাধের মূল হোতা মোস্তফা হোসেনকে আইনের আওতায় এনে হোটেলটি চিরতরে সিলগালা করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন