স্বর্ণ পাচারের অভিযোগে সীমান্তে গুলিবর্ষণ, আহত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা
সায়মন খান | লিড নিউজ ২৪
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে মনিরুল ইসলাম (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। পরে তাঁকে আহত অবস্থায় আটক করে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত মনিরুল ইসলাম ওই গ্রামের লিয়াকত ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যায় মনিরুলসহ সাতজনের একটি দল স্বর্ণ পাচারের উদ্দেশ্যে সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে অবস্থান করছিল। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ও রাবার বুলেট ছোড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গুলিতে মনিরুলের একটি পা আহত হয়। একই সঙ্গে তাঁর পিঠের বিভিন্ন স্থানে রাবার বুলেটের আঘাত লাগে। গুরুতর আহত হয়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য ছয়জন পাশের খালে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যান।
পরে বিএসএফ সদস্যরা মনিরুলকে আটক করে ভারতীয় ভূখণ্ডে নিয়ে যান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ঘটনার সময় মনিরুলের সঙ্গে থাকা অন্য ব্যক্তিরা হলেন রাশেদ (৩২), আনিছ (৩৫), সোহান (২৫), শাওন (২৬), মিন্টু (৩৮) ও মশিয়ার (৪০)। তাঁরা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
হরিহরনগর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য টিটু জানান, সন্ধ্যার পর সীমান্তের কাঁটাতারের কাছ থেকে গুলির শব্দ শোনেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তাঁরা জানতে পারেন, মনিরুলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বিএসএফ সদস্যরা ধরে নিয়ে গেছেন। তবে তাঁর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, সীমান্তে গুলিবর্ষণের বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। তবে প্রশাসনিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহেশপুর ৫৮ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমান সীমান্তে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিএসএফের হেফাজতে থাকা মনিরুল ইসলাম জীবিত আছেন কি না, কিংবা তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ঘিরে সীমান্তবর্তী এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে স্বর্ণ পাচারের অভিযোগ ও গুলিবর্ষণের বিস্তারিত পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন