বিশেষ প্রতিনিধি: রশিদুল হক জীবন।
কোলের শিশুর বয়স মাত্র ৪৫ দিন। সেই নবজাতককে সঙ্গে নিয়েই যাত্রীবাহী বাসে করে পাচার করা হচ্ছিল ইয়াবার চালান। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে নারীর দুই পায়ের হাঁটুর নিচে অ্যাংলেটের সাহায্যে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ৭ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ ওই নারী ও তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল জামালপুর এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, বগুড়ার উপপরিচালক মোহা. জিললুর রহমান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সারমিন খানম (২৫) ও তাঁর স্বামী সোহাগ মৃধা (৩১)। তাঁদের স্থায়ী বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায়। বর্তমানে তাঁরা ঢাকার মিরপুর-১ এলাকার মধ্যপাইকপাড়া আহম্মদ নগরে বসবাস করতেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা একাধিক মাদক মামলার অভিযুক্ত।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খবর পাওয়া যায়, ৪৫ দিনের নবজাতককে সঙ্গে নিয়ে বিশেষ কৌশলে লুকানো ইয়াবার একটি চালান ঢাকায় থেকে বগুড়ায় পাচার করা হবে। এ তথ্যের ভিত্তিতে অধিদপ্তরের একটি দল শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল জামালপুর এলাকায় অবস্থান নেয়।
একপর্যায়ে ঢাকা থেকে বগুড়াগামী আর কে ট্রাভেলসের একটি যাত্রীবাহী বাস সেখানে পৌঁছালে তল্লাশি চালানো হয়। বাসটির এফ-১ ও এফ-২ নম্বর আসনে বসা টিকিটবিহীন দুই যাত্রীর দেহ তল্লাশি করে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়।
অভিযানকালে সারমিন খানমের দুই পায়ের হাঁটুর নিচে অ্যাংলেটের সঙ্গে কালো স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো নীল রঙের জিপারযুক্ত পলিপ্যাকেটে ইয়াবাগুলো লুকানো অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সিমকার্ডসহ একটি ভিভো ও একটি অপো অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং দুটি সাদা রঙের অ্যাংলেট জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. সামসুল আলম বাদী হয়ে বগুড়ার শাজাহানপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার করা ইয়াবার চালানের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
মন্তব্য করুন