স্পোর্টস ডেস্ক | লিড নিউজ ২৪
আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। পাঁচ দিনের লড়াই শেষে ম্যাচটি ড্র হলেও শেষ মুহূর্তে আফগান ক্রিকেটার কাইস আহমেদের অস্বাভাবিক চোটের ঘটনা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ম্যাচ বাঁচাতে ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেস্টের শেষ দিনের খেলা যখন চূড়ান্ত উত্তেজনায়, তখন জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র দুটি উইকেট। অন্যদিকে পরাজয় এড়াতে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত উইকেটে টিকে থাকাই ছিল আফগানিস্তানের একমাত্র লক্ষ্য।
ম্যাচের শেষ দিকে বাংলাদেশের স্পিনার তাইজুল ইসলামের একটি বল রক্ষণাত্মকভাবে খেলার পর হঠাৎ বাঁ পায়ের পেছনের পেশি চেপে ধরে মাটিতে বসে পড়েন কাইস আহমেদ। একপর্যায়ে তাঁকে মাঠেই শুয়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত মাঠে প্রবেশ করেন আফগানিস্তান দলের ফিজিও। চিকিৎসার কারণে প্রায় চার মিনিট বন্ধ থাকে খেলা।
তবে কাইসের এই চোট কতটা গুরুতর ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগে এমন ঘটনা ঘটায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। মাঠে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকেও অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। অনেক ক্রিকেটপ্রেমীর অভিযোগ, প্রকৃত চোটের পরিবর্তে সময়ক্ষেপণের কৌশল হিসেবেই এমন আচরণ করেছেন আফগান এই ক্রিকেটার। যদিও ইচ্ছাকৃতভাবে চোটের অভিনয় করার বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি এবং আফগানিস্তান দলের পক্ষ থেকেও এমন অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি।
এদিকে ঘটনাটি অনেককে মনে করিয়ে দিয়েছে ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগান ক্রিকেটার গুলবাদিন নাইবের আলোচিত চোটের ঘটনাকে। সেবার বাংলাদেশের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হঠাৎ মাটিতে পড়ে যাওয়ায় সময়ক্ষেপণের অভিযোগ উঠেছিল গুলবাদিনের বিরুদ্ধেও। এবার কাইসের ঘটনাতেও প্রায় একই ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তবে শুধু চোটের ঘটনা নয়, ব্যাট হাতেও বাংলাদেশের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান কাইস। নয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৮০ বলে অপরাজিত ৪৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। শেষ ওভারে তাইজুল ইসলামকে দুটি ছক্কা মেরে দলের ড্র নিশ্চিত করেন এই আফগান ক্রিকেটার।
এর আগে বাংলাদেশের দেওয়া ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তানের প্রধান ভরসা হয়ে ওঠেন সেদিকউল্লাহ আতাল। দুর্দান্ত ধৈর্য ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৩৩২ বলে ১১১ রান করেন তিনি। তাঁর বিদায়ের পরও আফগানিস্তানের শেষ দিকের ব্যাটাররা বাংলাদেশের বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
বিশেষ করে ইয়ামিন আহমাদজাই ও কাইস আহমেদের লড়াই আফগানিস্তানকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। বাংলাদেশ একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ ও রানআউটের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত জয় পাওয়া সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করার পর আফগানিস্তানকে ২৪০ রানে অলআউট করে ১০৬ রানের লিড নেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে টাইগাররা। ফলে আফগানিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ৪৭৯ রানের কঠিন লক্ষ্য।
শেষ পর্যন্ত ১৪২ ওভার ব্যাট করে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান তুলে ম্যাচ ড্র করে আফগানিস্তান। প্রায় নিশ্চিত পরাজয়ের পরিস্থিতি থেকে এই ফল আফগানদের কাছে বড় সাফল্য হলেও বাংলাদেশের জন্য তা হতাশার।
তবে ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি কাইস আহমেদের বিতর্কিত চোটের ঘটনা নিয়েও আলোচনা থামছে না। ক্রিকেটে চোট পাওয়া স্বাভাবিক ঘটনা হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সময়ক্ষেপণের অভিযোগ খেলাটির নৈতিকতা ও স্পোর্টসম্যানশিপ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
বাংলাদেশের জয়ের আশা ভেঙে আফগানিস্তান শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বাঁচাতে সক্ষম হলেও কাইস আহমেদের ওই চোট প্রকৃতপক্ষে কতটা গুরুতর ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
মন্তব্য করুন