জাফর আহমেদ।। লাকসাম স্টেডিয়াম সংস্কার ও আধুনিকায়নের দাবিতে ১৪ অক্টোবর যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে সাত দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি দিয়েছেন লাকসাম ফুটবল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বদিউল আলম সুজন।
স্মারকলিপিতে লাকসাম স্টেডিয়ামের জরাজীর্ণ অবকাঠামো সংস্কার, খেলার মাঠের উন্নয়ন, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, দর্শক গ্যালারি ও খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং স্টেডিয়ামটিকে পর্যায়ক্রমে একটি আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্সে উন্নীত করার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, লাকসাম কুমিল্লার একটি ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক জনপদ। শিক্ষা, সংস্কৃতি, যোগাযোগ ও ক্রীড়াক্ষেত্রে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে।
লাকসাম স্টেডিয়াম দীর্ঘদিন ধরে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়নের অভাবে স্টেডিয়ামটির মাঠ ও অবকাঠামোতে ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মকে মাদক, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও সুশৃঙ্খল জীবন গঠনে খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
একটি আধুনিক ও মানসম্মত স্টেডিয়াম গড়ে তোলা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রতিভা বিকাশ এবং জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
উক্ত ৭ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, স্টেডিয়ামের বর্তমান অবস্থা সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় কারিগরি জরিপ ও মূল্যায়ন করা, খেলার মাঠের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার এবং আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, দর্শক গ্যালারি, ড্রেসিংরুম, টয়লেট ও খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার উন্নয়ন করা,
স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা, আলোকসজ্জা ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নত করা,
ফুটবল, ক্রিকেট, অ্যাথলেটিকসসহ বিভিন্ন খেলাধুলার উপযোগী অবকাঠামো নির্মাণ করা, তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রতিভা অন্বেষণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং স্টেডিয়ামটিকে পর্যায়ক্রমে একটি আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্সে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকারি প্রকল্প গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদান করা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, লাকসাম স্টেডিয়ামের সংস্কার ও আধুনিকায়ন শুধু একটি ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন নয়, বরং এটি লাকসামের ক্রীড়ার ঐতিহ্য সংরক্ষণ, তরুণ প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশ এবং সুস্থ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্মারকলিপিদাতা অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বদিউল আলম সুজন আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এর মাধ্যমে লাকসাম স্টেডিয়াম নতুন প্রাণ ফিরে পাবে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরির অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হবে।
মন্তব্য করুন