সিরিয়া জানিয়েছে, তারা চলতি সপ্তাহ থেকে ইরাকের আমদানি করা পেট্রোল সরবরাহ শুরু করেছে। কয়েক মাস আগে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর ইরাক সিরিয়ার মধ্য দিয়ে তেল রপ্তানি শুরু করে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, দেশটির ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত বানিয়াস তেল টার্মিনাল থেকে ইরাকের জন্য আমদানি করা পেট্রোল পরিবহন শুরু করেছে সিরিয়ান পেট্রোলিয়াম কোম্পানি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিন মাস মেয়াদি একটি নবায়নযোগ্য চুক্তির আওতায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সিরিয়ান পেট্রোলিয়াম কোম্পানির কর্মকর্তা আহমেদ কুব্বাজির বরাত দিয়ে সানা জানায়, গত বৃহস্পতিবার প্রথম চালানে ৫৭টি ট্যাংকার দিয়ে পরিবহন শুরু হয়। ইরাকের সঙ্গে আল-তানফ স্থলসীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন চলাচলকারী ট্রাকের সংখ্যা বাড়িয়ে ২০০টিতে নেওয়ার কাজও চলছে।
কুব্বাজি জানান, কাতারের প্রতিষ্ঠান ইউসিসি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে পেট্রোল কেনার দায়িত্বে রয়েছে। এরপর সিরিয়া নির্ধারিত পরিবহন ফি নিয়ে সেই পেট্রোল ইরাকে পৌঁছে দিচ্ছে।
তার ভাষায়, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি আমদানি, রপ্তানি ও পরিবহনের একটি করিডোর হিসেবে সিরিয়ার ভূমিকা আরও জোরদার হচ্ছে।
হরমুজ সংকটে ইরাকের তেল রপ্তানি ব্যাহত
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইরাকের তেল রপ্তানি বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এপ্রিলে বাগদাদ জানিয়েছিল, প্রণালীটি এড়িয়ে যেতে তারা সিরিয়ার মধ্য দিয়ে ট্রাকে করে অপরিশোধিত তেল পরিবহন শুরু করেছে।
তবে সমুদ্রপথে আগে যে পরিমাণ তেল পরিবহন করা হতো, স্থলপথে বর্তমানে তার তুলনায় অনেক কম পরিমাণ তেল পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।
কুব্বাজি জানান, প্রতিদিন ১,২০০টি পর্যন্ত ইরাকি তেলবাহী ট্যাংকার সিরিয়ার ভূখণ্ড দিয়ে চলাচল করত।
তেল পাইপলাইন পুনরায় চালুর উদ্যোগ
দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের কারণে দেশটির অর্থনীতি ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে সিরিয়া ও ইরাকের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন পুনরায় চালু করার চুক্তি নিয়ে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিরিয়ার কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন