নিজস্ব প্রতিবেদক, লিড নিউজ ২৪
নেপাল ও চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতে ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় চরম প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে নেপাল। তবে এই নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতির জন্য প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চীনের অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ ও নদী ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে এবার দেশ দুটির কাছে সরাসরি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে কাঠমান্ডু সরকার।
ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই অঞ্চলেই বন্যায় মৃতের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। পাহাড়ি ঢলে ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা, তলিয়ে গেছে বহু কৃষিজমি ও বসতবাড়ি। উদ্ধারকাজ চলমান থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা বারবার ব্যাহত হচ্ছে। নেপাল সরকারের দাবি, সীমান্ত অঞ্চলে অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ এবং নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণেই এবারের বন্যা এমন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কাঠমান্ডুর বক্তব্য, তাদের এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির জন্য যেহেতু প্রতিবেশী দুই বৃহৎ রাষ্ট্রের নীতি ও উন্নয়ন প্রকল্প প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দায়ী, তাই আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী অবিলম্বে তাদের এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।
নেপালের এই দাবির বিষয়টি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে, বিশেষ করে অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশও দীর্ঘদিন ধরে উজানের দেশ ভারতের সাথে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন এবং বর্ষায় হঠাৎ করে বাঁধ খুলে দেওয়ার কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা নিয়ে ভুগছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে হওয়া প্রলয়ংকরী বন্যার পেছনে উজানের ঢল ও সঠিক সময়ে তথ্য না দেওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়। প্রতিবেশী বড় দেশগুলোর একতরফা পানি ব্যবস্থাপনার কারণে ভাটির বা অপেক্ষাকৃত ছোট দেশগুলোকে যে চরম মূল্য চোকাতে হয়, নেপালের বর্তমান পরিস্থিতি তারই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, নেপালের এই ক্ষতিপূরণ দাবি ভারত ও চীনের সাথে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে। তবে কাঠমান্ডুর এই সাহসী অবস্থান প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর কিছুটা হলেও চাপ সৃষ্টি করবে। বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ ও নীতি-নির্ধারকদের কাছেও নেপালের এই দৃষ্টান্ত আগামীতে পানিবণ্টন কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আপাতত নয়াদিল্লি ও বেইজিং কাঠমান্ডুর এই দাবির আনুষ্ঠানিক কী প্রতিক্রিয়া জানায়, সেদিকেই নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
মন্তব্য করুন