বিনোদন ডেস্ক, লিড নিউজ ২৪ ডট নেট:
‘কেজিএফ’ দিয়ে শুধু ভারতেই নয়, বাংলাদেশের দর্শকদের মনেও শক্ত আসন গেড়েছেন কন্নড় সুপারস্টার যশ। দীর্ঘদিন পর তার নতুন সিনেমা ‘টক্সিক’ (Toxic) নিয়ে ভক্তদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। আর সেই উন্মাদনার প্রমাণ মিলল সিনেমাটির অগ্রিম টিকিট বুকিংয়ে। আক্ষরিক অর্থেই বক্স অফিসে রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে ‘টক্সিক’। টিকিট বিক্রি শুরুর মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যেই ৩০ হাজার টিকিট লুফে নিয়েছেন দর্শক! ধারণা করা হচ্ছে, মুক্তির প্রথম দিনেই শুধু হিন্দি ভার্সন থেকে সিনেমাটি প্রায় ৫০ কোটি রুপি আয়ের মাইলফলক ছুঁতে যাচ্ছে।
বলিউডভিত্তিক জনপ্রিয় পোর্টাল ‘বলিউড হাঙ্গামা’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে ‘টক্সিক’ সিনেমার হিন্দি ডাবড ভার্সনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। শুরু থেকেই অভাবনীয় সাড়া ফেলে গীতু মোহনদাস পরিচালিত এই অ্যাকশন থ্রিলার। ভারতের শীর্ষ তিন মাল্টিপ্লেক্স চেইন—পিভিআর-আইনক্স এবং সিনেপলিসে মাত্র ৬ ঘণ্টারও কম সময়ে ৩০ হাজার টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। বাংলাদেশি দর্শক, যারা বরাবরই বড় পর্দায় যশের অ্যাকশন অবতার দেখতে ভালোবাসেন, তাদের কাছেও এই খবর সিনেমাটি নিয়ে কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সিনেমাটির টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সুপার ব্লকবাস্টার’ ক্যাটাগরিতে; যা বলিউডের ‘ধুরন্ধর ২’ এবং হলিউডের ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’-এর মতো মেগা বাজেটের ছবির সমান। টিকিটের এই চড়া দাম সত্ত্বেও দর্শকদের যে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, তা সর্বকালের অন্যতম সেরা হিন্দি সিনেমাগুলোর রেকর্ড মনে করিয়ে দিচ্ছে। বক্স অফিস বিশ্লেষকদের ধারণা, অগ্রিম বুকিংয়ের এই গতি অব্যাহত থাকলে মুক্তির প্রথম দিনেই কেবল হিন্দি বলয় থেকে ৪৫ থেকে ৫৫ কোটি রুপির ব্যবসা করবে ‘টক্সিক’।
পরিসংখ্যান বলছে, প্রথম ৬ ঘণ্টার টিকিট বিক্রির দৌড়ে ‘টক্সিক’ পেছনে ফেলেছে রণবীর কাপুরের ‘অ্যানিমেল’, সালমান খানের ‘টাইগার ৩’ এবং ‘স্পাইডার-ম্যান’-এর মতো বাম্পার ওপেনিং পাওয়া সুপারহিট সিনেমাগুলোকেও। ভারতের মাল্টিপ্লেক্স থেকে শুরু করে সিঙ্গেল স্ক্রিন—সবখানেই যশের ছবির টিকিটের ব্যাপক চাহিদা দেখা যাচ্ছে।
চলতি ২০২৬ সালের বক্স অফিসে এখন পর্যন্ত অগ্রিম বুকিংয়ের দিক থেকে ‘ধুরন্ধর ২’-এর পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে ‘টক্সিক’। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, ‘ধুরন্ধর ২’ ছিল জনপ্রিয় একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির ছবি। অন্যদিকে ‘টক্সিক’ কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি নয়, একেবারেই মৌলিক গল্পের একটি কন্নড় সিনেমা। একটি একক সিনেমা হিসেবে এমন রেকর্ড ভাঙা বুকিং প্রমাণ করে প্যান-ইন্ডিয়া সুপারস্টার হিসেবে যশের ক্রেজ ঠিক কতটা প্রবল।
বাংলাদেশেও যশের বিশাল ফ্যানবেস রয়েছে। বিশেষ করে ‘কেজিএফ চ্যাপ্টার ২’-এর অভাবনীয় সাফল্যের পর থেকে এ দেশের প্রেক্ষাগৃহেও যশের সিনেমা মানেই বাড়তি উন্মাদনা। বিশ্বজুড়ে ‘টক্সিক’-এর এমন দাপুটে শুরু আভাস দিচ্ছে, বাংলাদেশের মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে সিনেমাটি মুক্তি পেলে এখানেও দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাবে।
মন্তব্য করুন