সাধারণ দর্শকদের জন্য সিনেমাটি মুক্তির আগেই রামলীলা কমিটির শীর্ষ কর্তাদের জন্য এক বিশেষ প্রদর্শনীর (প্রিভিউ স্ক্রিনিং) দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এই দাবি না মানলে ভারতের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে সিনেমাটির প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
সম্প্রতি দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘শ্রী রামলীলা মহাসংঘ’-এর সভাপতি অর্জুন কুমার জানান, তাঁরা ইতিমধ্যে সিনেমাটির প্রযোজক ও পরিচালকের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন।
ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই-কে তিনি বলেন:
“আমরা এই সিনেমার বিরুদ্ধে নই। লাখ লাখ মানুষ সিনেমাটি দেখুক, সেটাই আমরা চাই। এমনকি রামলীলা কমিটির সদস্যদের জন্য আমরা বিনামূল্যে সিনেমাটি দেখানোর ব্যবস্থাও করব। তবে ছবিটির প্রথম দিকের কিছু ঝলক দেখে আমাদের মনে সংশয় তৈরি হয়েছে। শিল্পীদের পোশাক ও উপস্থাপন আমাদের কাছে কিছুটা বেমানান মনে হয়েছে।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, “আমাদের দাবি একটাই—প্রেক্ষাগৃহে সাধারণ দর্শকের জন্য মুক্তির আগেই নির্মাতারা যেন রামলীলা কমিটির জন্য একটি স্পেশাল স্ক্রিনিংয়ের আয়োজন করেন।”
২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া এবং তুমুল বিতর্কের মুখে পড়া সিনেমা ‘আদিপুরুষ’-এর প্রসঙ্গ টেনে সতর্ক করেন অর্জুন কুমার। তিনি উল্লেখ করেন, পৌরাণিক গল্পে অযাচিত আধুনিকতা ও পরিবর্তন আনতে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছিল। ফলে দর্শকরা ছবিটি বর্জন করে এবং বক্স অফিসে তা চরম মুখ থুবড়ে পড়ে।
মহাসংঘের মতে, ‘রামায়ণ’-এর ক্ষেত্রে যেন সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। তাই আগাম স্ক্রিনিংয়ে যদি কোনো ভুলত্রুটি বা আপত্তিজনক দৃশ্য চোখে পড়ে, তবে তা মুক্তির আগেই সংশোধন করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
শ্রী রামলীলা মহাসংঘ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্মাতারা যদি তাঁদের এই অনুরোধ উপেক্ষা করে সরাসরি সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে আনেন এবং সেখানে কোনো বিতর্কিত বিষয় থাকে, তবে দিল্লি সহ ভারতের প্রধান প্রধান শহরগুলোর সিনেমা হলের সামনে তারা তীব্র বিক্ষোভ গড়ে তুলবেন এবং সিনেমাটির প্রদর্শনী বন্ধ করে দেবেন।
উপমহাদেশের সিনেমা প্রেমীদের কাছে নীতিশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’ নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। মহাকাব্যিক এই চলচ্চিত্রে প্রধান প্রধান চরিত্রে দেখা যাবে:
জানা গেছে, মহাকাব্যিক এই ছবিটি মোট দুটি খণ্ডে প্রেক্ষাগৃহে আসবে। এর প্রথম খণ্ডটি আগামী দীপাবলি উৎসবে এবং দ্বিতীয় অংশটি পরবর্তী বছরে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে মহাসংঘের এই আলটিমেটামের পর সিনেমাটির প্রযোজক ও পরিচালক কী পদক্ষেপ নেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন