নীলফামারী প্রতিনিধি।
কক্সবাজার, টেকনাফ ও মহেশখালীর উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে জলঢাকা সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অনার্স ২য়, ৩য় ও ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের পাঁচ দিনব্যাপী শিক্ষাসফর সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
গত ২৪ জুলাই কলেজ চত্বর থেকে শিক্ষাসফরের যাত্রা শুরু হয়। বিভিন্ন শিক্ষা ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন শেষে ২৮ জুলাই দুপুরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা নিরাপদে কলেজে ফিরে আসেন।
কলেজ সূত্র জানায়, শিক্ষাসফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল শ্রেণিকক্ষে অর্জিত তাত্ত্বিক জ্ঞানকে মাঠপর্যায়ে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করা। সফরে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকত, হিমছড়ি এবং আন্তর্জাতিক মানের ‘রেডিয়্যান্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড’ পরিদর্শন করেন। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ও জলজ প্রাণীর জীবনচক্র ও বৈচিত্র্য সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন তারা।
এ ছাড়া মেরিন ড্রাইভ হয়ে পাটুয়ারটেকের প্রবাল পাথুরে সৈকতে গিয়ে প্রবাল, শেওলা, ছোট কাঁকড়া ও অন্যান্য সামুদ্রিক জীবের আবাসস্থল পর্যবেক্ষণ করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষাসফরের অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দল টেকনাফ জিরোপয়েন্ট, নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা পরিদর্শন করে। এ সময় তারা মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন উপকূলীয় ভৌগোলিক পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা লাভ করেন।
সফরের শেষ পর্যায়ে ট্রলারযোগে মহেশখালী দ্বীপে গিয়ে ঐতিহাসিক আদিনাথ মন্দির এবং দ্বীপের পাহাড়ি ও উপকূলীয় পরিবেশ ঘুরে দেখেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণী, আর্থোপোডা, মোলাস্কা ও অ্যানিলিডা পর্বের বিভিন্ন প্রজাতির জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ করা হয়।
শিক্ষাসফরে বিভাগের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অংশ নেন। সফরের সার্বিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান গজেন্দ্র নাথ বর্মন দায়িত্ব পালন করেন। প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন বিভাগের শিক্ষক স্বপন কুমার সরকার। এছাড়া সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন শিক্ষক শফিকুল গনি স্বপন ও মারুফা আক্তার।
বিভাগীয় প্রধান গজেন্দ্র নাথ বর্মন বলেন, “অনার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মাঠপর্যায়ে জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র সরাসরি পর্যবেক্ষণ গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই সফরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সামুদ্রিক ও উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পেয়েছে।”
পাঁচ দিনের এ শিক্ষাসফর সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন হওয়ায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মন্তব্য করুন