মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ১৩ নম্বর খানপুর ইউনিয়নের শালিকা বিল এলাকায় কৃষিজমিতে মৎস্যঘের পুনঃখননকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধ এবার সংবাদ প্রকাশকে ঘিরে নতুন মাত্রা পেয়েছে। জমির মালিকেরা বলেন দৈনিক গ্রামের কাগজ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে বাস্তব ঘটনার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, কৃষি জমিতে ঘের খননের কোন অনুমতি না থাকার পরও কৃষি জমিতে ঘের খননের উদ্দেশ্যে বিষয়টির সমাধানের জন্যে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের উদ্যোগে সালিশের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে উপজেলা প্রশাসনের তদন্তের পর নতুন তারিখ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হওয়ায় পূর্বনির্ধারিত সালিশ স্থগিত করা হয়। এরপরও নির্ধারিত সময়ে একটি পক্ষ উপস্থিত হলেও অপর পক্ষ সেখানে উপস্থিত হতে পারেনি বলে জানা যায়।পরবর্তীতে চেয়ারম্যান বলেন সালিশের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছিল সেটা আমার মনে ছিল না।
এ ঘটনার পর গত ৩ জুন প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২২ জন জমির মালিকের মধ্যে ২০ জন সালিশে উপস্থিত ছিলেন এবং তারা সংশ্লিষ্ট কৃষি জমিতে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে কোনো আপত্তি জানাননি। তবে অভিযোগকারীরা দাবি করেন, এ তথ্য সঠিক নয় এবং প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে এর মিল নেই।এখনো কয়েকজন লোক এম এ হালিমকে প্লিজ প্রতারণা স্বরূপ লিজ চুক্তিপত্রে অনুযায়ী কৃষি জমিতে খনন করতে দিতে রাজি নন এবং তারা শালিসে হাজির ছিল না।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কৃষিজমিতে মৎস্যঘের খননের বিষয়টি ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও সরকারি নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে কৃষিজমিতে পুনঃখনন কার্যক্রম আইনসম্মত ছিল কি না, সে প্রশ্নও জনমনে দেখা দিয়েছে।
উক্ত সংবাদপত্রে সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম লিখেছেন চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন ২২ জন জমির মালিকের মধ্যে ২০ জন জমির মালিক জমি দিতে রাজি এবং তারা সালিশে উপস্থিত ছিলো এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি প্রকাশ্যে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, পরবর্তীতে তার একটি ভিডিও বক্তব্যে প্রকাশিত সংবাদের কয়েকটি তথ্যের সঙ্গে অমিল পরিলক্ষিত হয়েছে এক পর্যায়ে তিনি বলেন সাংবাদিক জাহাঙ্গীরকে আমি এসব কথা বলিনি তবে তিনি সালিশে উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ প্রকাশকারী সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি সংবাদটি প্রকাশ করেছেন।অন্যদিকে অভিযোগকারীদের দাবি, সংবাদ প্রকাশের আগে তাদের বক্তব্য নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিবেদনের নিরপেক্ষতা ও তথ্যগত যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে তারা মনে করেন।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন