মহানগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া ২নং ক্রস রোডের একটি বাড়ির নারকেল গাছ থেকে পড়ে যাওয়া বিরল প্রজাতির সেই প্রাণীটি হেফাজতে নিয়েছে বন বিভাগ।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের প্রতিনিধি দলের কাছে হস্তান্তর করেন উদ্ধারকারী ফটো সাংবাদিক এম এম মিন্টু ও তার পরিবারের সদস্যরা।
এই প্রাণীকে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ সেন্টারে কয়েকদিন রেখে পর্যবেক্ষণ শেষে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
এর আগে গত ২ জুন নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া ২নং ক্রস রোডস্থ একটি বাড়ির নারকেল গাছ থেকে প্রাণীটি নিচে পড়ে যায়। এ প্রাণী ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া ফটো সাংবাদিক এম এম মিন্টু উদ্ধার করে তার বাসায় হেফাজতে রাখেন।
সেখানেই আদর-যত্নে ছিল প্রাণীটি। সাংবাদিক পত্নী লাভলি বেগম এবং তাদের ছেলে আরমান ইসলাম বিজয় তাকে পানি, ভাত এবং আম-কাঁঠাল ও কলাসহ নানা ফলমুল খেতে দেন। ওইদিনই প্রাণীটি হস্তান্তরের জন্য খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগকে অবহিত করা হয়।
প্রাণীটি হেফাজতে নেয়ার সময় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের প্রতিনিধি দলে ছিলেন ওয়াইল্ড লাইফ রেঞ্জার মো. ইসলামইল হোসাইন, জুনিয়র ওয়াইল্ড লাইফ স্কাউট মিথুন সরকার ও এ্যানিমেল কিপার ইলিয়াস হোসেন।
জুনিয়র ওয়াইল্ড লাইফ স্কাউট মিথুন সরকার বাসসকে বলেন, প্রাণীটি খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ সেন্টারে রাখা হয়েছে। এখানে কয়েকদিন রেখে পর্যবেক্ষণ শেষে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়া হবে। তবে, কর্তৃপক্ষ এ প্রাণীটির প্রকৃত নাম এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি- উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের প্রাণী খুলনাঞ্চলে আগে দেখা যায়নি। বিরল এ প্রাণীর বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।
প্রাণীটি দেখতে অনকটা কাঠ বিড়ালির মতো হলেও কাঠ বিড়ালি নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাণীটির বিভিন্ন নাম পাওয়া গেছে।
এগুলো হচ্ছে- দুর্লভ প্রজাতির সুগার গ্লাইডার (পেটাউরাস ব্রেভিসেপস), ইন্ডিয়ান পাম্প সিভেট ও গন্ধগোকুল (এশিয়ান প্লাম সিভেট)।
সাংবাদিক এম এম মিন্টু বাসসকে বলেন, গত ২ জুন মঙ্গলবার তার বাসার একটি নারকেল গাছ থেকে প্রাণীটি নিচে পড়ে। এ সময় বিড়াল তার ওপর আক্রমণ করার চেষ্টা করে। বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তার স্ত্রী লাভলি বেগম এই প্রাণীকে উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে খেতে দেন। আম, কাঁঠাল খেতে দেয়া হয়। প্রাণীটির সেবা-যতœ করে সুস্থ অবস্থায় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বাসসকে বলেন, এ প্রাণীটি গন্ধগোকুল হতে পারে। তবে, তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
মন্তব্য করুন