স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ পৌরসভাকে ‘গ’ শ্রেণি থেকে ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত করেছে।
গত মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-২ শাখার উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সরকারের প্রকাশিত আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের পূর্ববর্তী নীতিমালা ও মূল্যায়ন প্রতিবেদনের আলোকে শিবগঞ্জ পৌরসভার আর্থিক সক্ষমতা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা বিবেচনা করে এ উন্নীতকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পৌরসভার প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক সুবিধা আরো সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পৌরসভাকে ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত করার ফলে এখন থেকে শিবগঞ্জ পৌরসভা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে অধিক সুযোগ পাবে।
বিশেষ করে সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, স্ট্রিট লাইট স্থাপন, স্বাস্থ্যসেবা ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে শিবগঞ্জ পৌরসভায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে। পৌর এলাকার সড়ক সম্প্রসারণ, নতুন ড্রেন নির্মাণ, বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার ডিজিটালাইজেশন পৌরসভার কার্যক্রমকে আরো আধুনিক করেছে।
এছাড়া পৌর এলাকায় জনসংখ্যা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজস্ব আয়ও আগের তুলনায় বেড়েছে। এসব বিষয় পৌরসভার শ্রেণি উন্নীতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি পৌরসভাকে ‘গ’ থেকে ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত করতে সাধারণত কয়েকটি সূচক বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, নির্ধারিত পরিমাণ রাজস্ব আয়, নাগরিক সেবার মান, সড়ক ও যোগাযোগ অবকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা, জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা।
শিবগঞ্জ পৌরসভা এসব সূচকে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করায় সরকার এই স্বীকৃতি দিয়েছে। পৌরসভায় উন্নীত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
নতুন মর্যাদার ফলে এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম আরো বাড়বে এবং নাগরিক সেবার মান উন্নত হবে। ব্যবসায়ী ও শিক্ষিত তরুণদের মতে, পৌরসভার অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দেশের বিভিন্ন পৌরসভার সক্ষমতা মূল্যায়নের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে শ্রেণি পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে।
যেসব পৌরসভা নির্ধারিত মানদ- পূরণ করতে পারছে, সেগুলোকে উন্নীত করা হচ্ছে; অন্যদিকে পিছিয়ে থাকা পৌরসভাগুলোকে সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন