জেলার পূর্বধলা ও সদরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) জেলা কার্যালয়ের পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার দিনব্যাপী পরিচালিত অভিযানে ৪ হাজার ৭৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার মাদকের মোট বাজারমূল্য প্রায় ১৪ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা।
ডিএনসি নেত্রকোণা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক বাসস’কে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে তার নেতৃত্বে একটি চৌকস রেইডিং টিম পূর্বধলা থানাধীন শ্যামগঞ্জ-দুর্গাপুর সড়কের প্রদীপ পণ্ডিতের বাড়ির সন্নিকটে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালায়। এসময় সন্দেহভাজন দুই আরোহীকে তল্লাশিকালে তাদের জুতার ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ৪ হাজার ৭৫০ পিস অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
আটকরা হলেন- দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের হারিয়াউন্দ গ্রামের মৃত ওসমান গণির পুত্র মো. হাবিবুর রহমান (৫৩) এবং একই ইউনিয়নের বাড়য়পাড়া গ্রামের মো. মজিবুর রহমানের পুত্র মো. রমজান আলী (৩২)। তারা সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে। উদ্ধার ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৪ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা।
এদিকে, দিনের শুরুতে সকাল ১১টার দিকে ডিএনসি’র পরিদর্শক মো. আল-আমিনের নেতৃত্বে অপর একটি দল নেত্রকোণা পৌরসভার তৈরি বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। রঞ্জিত সরকার (৫৯) নামে এক ব্যক্তির বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে একটি প্লাস্টিকের বালতির ভেতর স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে রঞ্জিত সরকার কৌশলে পালিয়ে যায়। উদ্ধার গাঁজার বাজারমূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে আরও জানা গেছে, ইয়াবাসহ আটক আসামিদের বিরুদ্ধে সহকারী পরিচালক বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় এবং পলাতক আসামির বিরুদ্ধে পরিদর্শক বাদী হয়ে নেত্রকোণা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
জেলায় মাদকের বিস্তার রোধকল্পে এবং ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এই ধরনের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে বাসস’কে জানান ডিএনসি নেত্রকোণা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক।
মন্তব্য করুন