বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে তৃণমূল পর্যায়ের বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ, করণীয় ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভাগীয় ‘এসআরএইচআর নলেজ ফেয়ার’-২০২৬।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই মেলায় বিভিন্ন স্তরের অংশীজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
সিরাক বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ইয়ুথ শেয়ার নেট’ প্রকল্পের আওতায় ‘শেয়ার নেট বাংলাদেশ ও রেড অরেঞ্জের উদ্যোগে এবং অ্যাম্পলিফাইচেঞ্জ’ এর সহযোগিতায় দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে তরুণ-তরুণী, গবেষক, নীতি-নির্ধারক, উন্নয়নকর্মী এবং সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নো মোর চাইল্ড ব্রাইডস: গ্রাসরুট পাওয়ার টু এন্ড চাইল্ড ম্যারেজ’। আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ এখনও একটি গভীর সামাজিক ও মানবাধিকার সংকট হিসেবে বিদ্যমান। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে দারিদ্র্য, সামাজিক কুসংস্কার, নিরাপত্তাহীনতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এ সমস্যাকে আরও তীব্র করে তুলছে।
বক্তারা উল্লেখ করেন, দেশে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আইন ও নীতিমালা থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে তার কার্যকর বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রতিরোধ কমিটি অকার্যকর, কিশোরীদের মতামত সিদ্ধান্ত গ্রহণে যথাযথ গুরুত্ব পায় না এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পর্যাপ্ত নয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) উম্মে হাবিবা মীরা। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, ময়মনসিংহের বিভাগীয় পরিচালক মো. মতিউর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিরাক-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত, রেড অরেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অর্নব চক্রবর্তী, পরিচালক (স্বাস্থ্য ও জেন্ডার) খালেদা ইয়াসমিন, সিরাক-বাংলাদেশের উপপরিচালক মো. সেলিম মিয়া এবং ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল কাইয়ুমসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি ও তরুণ নেতৃত্ব।
বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে তরুণদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা, সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ এবং কমিউনিটি পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
দিনব্যাপী বিভিন্ন সেশনে বাল্যবিবাহ, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য ও অধিকার (এসআরএইচআর), লিঙ্গ বৈষম্য, সামাজিক পরিবর্তন এবং তরুণদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন এস এম সৈকত।
এ সময় ‘ময়মনসিংহ বিভাগীয় বাল্যবিবাহ আর না ঘোষণা’ উপস্থাপন করা হয়, যেখানে মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা, চাহিদা ও সুপারিশসমূহ তুলে ধরা হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ
করেন, এই ঘোষণা ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন