ব্রিটেনে বৃহস্পতিবার স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জনপ্রিয়তা হারানো প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের জন্য এটি নতুন চাপ ডেকে আনতে পারে। একই সঙ্গে ডান ও বামপন্থী জনতাবাদী দলগুলোর উত্থান আরও দৃঢ় হতে পারে।
লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
স্কটল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে লাখো ভোটার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বড় ব্যবধানে সাধারণ নির্বাচন জয়ের পর এটি স্টারমারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
জরিপগুলো বলছে, লেবারের ফলাফল হতাশাজনক হতে পারে। এতে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হতে পারে। যদিও তাকে সরানো সহজ নয় এবং বিকল্প নেতৃত্বও তেমন দেখা যাচ্ছে না।
এই নির্বাচনে অভিবাসন বিরোধী নেতা নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে ও বামপন্থী গ্রিন পার্টি বড় ধরণের সাফল্য পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রচলিত দলগুলোর প্রতি ভোটারদের অনাগ্রহই এর পেছনে কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনীতি বিশ্লেষক টিম বেল বলেন, মেয়াদের শুরুতেই সরকারের কিছু অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত ও নেতার দুর্বল যোগাযোগ ক্ষমতা পরিস্থিতিকে খারাপ করেছে। একই সঙ্গে ভোটারদের ধৈর্য ও দলীয় আনুগত্য আগের চেয়ে কমে গেছে।
জরিপে ইঙ্গিত মিলেছে, ৩০ লাখ মানুষের ওয়েলসে প্রথমবারের মতো ক্ষমতা হারাতে পারে লেবার। ২৭ বছর আগে নিজস্ব পার্লামেন্ট পাওয়ার পর থেকে অঞ্চলটিতে দলটির আধিপত্য ছিল।
এই মাসের শুরুতে প্রকাশিত একটি ইউগভ জরিপে দেখা যায়, রিফর্ম ইউকে ও স্বাধীনতাপন্থী প্লেইড কামরু প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছে।
গবেষণাটি বলছে, ২০২১ সালের নির্বাচনের তুলনায় লেবারের ভোট প্রায় ২৩ পয়েন্ট কমতে পারে। এতে ওয়েলসে দলটির শতবর্ষী আধিপত্যের অবসান ঘটতে পারে।
কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লরা ম্যাকঅ্যালিস্টার বলেন, ওয়েলসে ক্ষমতা হারানো লেবারের জন্য বিপর্যয়কর হবে। এ ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে।
স্কটল্যান্ডেও খারাপ ফলের আশঙ্কা করছে লেবার। সেখানে ১২৯ আসনের পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচন করা হবে।
দুই বছর আগে স্টারমার ক্ষমতায় আসার পর দলটি আশা করেছিল, ২০০৭ সালের পর প্রথমবারের মতো স্কটল্যান্ডে ক্ষমতা ফিরে পাবে।
কিন্তু এখন জরিপ বলছে, স্বাধীনতাপন্থী স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি) তাদের ১৯ বছরের শাসন আরও জোরদার করতে পারে।
ইউগভের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এসএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতাও পেতে পারে। রিফর্ম দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসতে পারে।
লেবার তৃতীয় স্থানে চলে যেতে পারে।
স্কটিশ লেবার নেতা আনাস সারওয়ার ইতোমধ্যে স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
ইংল্যান্ডে প্রায় ২ হাজার ৫৫০টি স্থানীয় আসনের মধ্যে লেবার প্রায় ১ হাজার ৮৫০টি হারাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন জরিপ বিশ্লেষক রবার্ট হেওয়ার্ড।
সারা দেশে প্রায় ৫ হাজার কাউন্সিল আসনে ভোট হবে।
হেওয়ার্ডের মতে, রিফর্ম প্রায় ১ হাজার ৫৫০টি আসন পেতে পারে। এগুলো লেবার ও কেমি ব্যাডেনকের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভদের কাছ থেকে যাবে।
মূলত শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী এলাকায় এই সাফল্য আসতে পারে।
গ্রিন পার্টি, যাদের নেতৃত্বে আছেন ‘ইকো-পপুলিস্ট’ জ্যাক পোলানস্কি, গাজা-সমর্থনমূলক অবস্থান নিয়ে বিশেষ করে লন্ডনে লেবারের কাছ থেকে কয়েক শত আসন পেতে পারে।
৬৩ বছর বয়সী স্টারমার টানা ১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের অবসান ঘটালেও এরপর থেকে একের পর এক নীতিগত ভুলে পড়েছেন।
বর্তমানে বরখাস্ত হওয়া মার্কিন দূত পিটার ম্যান্ডেলসনকে ঘিরে বিতর্কেও তিনি চাপে রয়েছেন।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এখনো সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলছে। তবে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতা করায় প্রশংসা পেয়েছেন।
টিম বেল বলেন, গ্রিন ও রিফর্ম এমন কিছু সমাধান প্রস্তাব করছে যা আকর্ষণীয়, যদিও অনেকের মতে সেগুলো সরলীকৃত। কিন্তু লেবার ও কনজারভেটিভরা দীর্ঘদিনেও সমস্যাগুলোর সমাধান দিতে পারেনি।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমে গুঞ্জন রয়েছে, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার বা স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং স্টারমারকে সরানোর চেষ্টা করতে পারেন।
তবে দলের ভেতরে তাদের কারোই সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা নেই। নেতৃত্বের লড়াই শুরু করতে হলে দলীয় সংসদ সদস্যদের অন্তত ২০ শতাংশের সমর্থন প্রয়োজন।
নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টিভেন ফিল্ডিং বলেন, ‘আমার ধারণা, তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে কম খারাপ বিকল্প হিসেবে টিকে থাকবেন। তবে এটি মোটেও সুখকর দৃশ্য নয়।’
মন্তব্য করুন