কিশোরগঞ্জ শহরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে শিক্ষার্থীসহ ৪৪ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
গতকাল সোমবার রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, শহরের অলিগলিতে অপ্রয়োজনীয় আড্ডা বন্ধ করা এবং কিশোরদের সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখাই ছিল অভিযানের মূল লক্ষ্য। রাতে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যহীন ঘোরাফেরা অনেক ক্ষেত্রে মাদকাসক্তি ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ঝুঁকি তৈরি করে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই রাতের অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে শহরের নরসুন্দা নদীর লেকপাড়সহ বিভিন্ন নির্জন ও অন্ধকার গলি এবং এলাকায় অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়া হয়। এ সময় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করা ৪৪ জনকে আটক করা হয়।
পাশাপাশি উদ্দেশ্যহীনভাবে রাতে বাইরে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হয়।
পরে আটক ব্যক্তিদের অভিভাবকদের থানায় ডেকে আনা হলে তারা মুচলেকা দিয়ে সন্তানদের নিয়ে যান।
পুলিশ জানায়, এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য শাস্তি দেয়া নয়; বরং অভিভাবকদের সচেতন করা এবং কিশোরদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা। প্রাইভেট পড়া, চিকিৎসা বা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে থাকা ব্যক্তিদের অভিযানের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
রাত আনুমানিক ১২টার দিকে সদর মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, এই বয়সটা খুবই সংবেদনশীল। সন্তানরা যেন ভুল পথে না যায়, সে বিষয়ে অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে হবে। সন্তানের সফলতাই একদিন বাবা-মায়ের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
পুলিশ জানিয়েছে, শহরের অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন