নিউজ ডেস্ক
২ ঘন্টা আগে
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ১৬ জন

কিছু সহজ অভ্যাস আপনার দাঁতকে সুরক্ষিত করে

ঝকঝকে সাদা দাঁত শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি সুস্বাস্থ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসেই লুকিয়ে আছে এমন কিছু অভ্যাস ও খাবার, যা ধীরে ধীরে দাঁতের সবচেয়ে শক্ত স্তর ‘এনামেল’ ক্ষয় করে দিচ্ছে।

অনেকেই মনে করেন শুধু মিষ্টি খেলেই দাঁতের ক্ষতি হয়, কিন্তু বাস্তবতা আরও বিস্তৃত। অ্যাসিডিক পানীয়, সফট ড্রিঙ্কস, এমনকি স্বাস্থ্যকর মনে করা কিছু ফলের জুসও দাঁতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবারের ধরন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ তা খাওয়ার সময় ও অভ্যাসও। ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে পান করা বা বারবার অ্যাসিডিক খাবার গ্রহণ করলে দাঁতের ক্ষতির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ১০টি খাবার ও পানীয় সম্পর্কে, যেগুলো আপনার দাঁতের এনামেলের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

১. ফলের জুস

মুখের ভেতরের pH মাত্রা ৫.৫-এর নিচে নামলে দাঁতের এনামেল নরম হয়ে যায়। সাইট্রাস ফলের জুসের pH সাধারণত ২.০–৩.৫-এর মধ্যে থাকে, যা অত্যন্ত অ্যাসিডিক। এতে থাকা সিট্রিক অ্যাসিড দাঁতের খনিজ উপাদান টেনে বের করে আনে, ফলে এনামেল ক্ষয়ের ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়। আনারস ও ডালিমের জুসও এনামেল ক্ষয় করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ডালিমের জুসের প্রভাব অনেকটা সোডার মতোই। প্যাকেটজাত জুসে অতিরিক্ত সিট্রিক অ্যাসিড ও ভিটামিন C (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) থাকায় এগুলো আরও ক্ষতিকর হতে পারে। তবে ক্যালসিয়ামযুক্ত জুস কিছুটা কম ক্ষতিকর।

২. সোডা ও স্পার্কলিং ওয়াটার

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন চিনিযুক্ত সোডা পান করেন না, তাদের দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি ৯৪% কম। সোডার pH ২.৫–৩.৫, যা অত্যন্ত অ্যাসিডিক। এতে কার্বনিক, সিট্রিক, ফসফরিক ও টারটারিক অ্যাসিড থাকে। বিশেষ করে ফসফরিক অ্যাসিড দাঁত থেকে ক্যালসিয়াম বের করে আনে। প্রতিবার সোডা পান করার পর প্রায় ২০ মিনিট ধরে দাঁতে অ্যাসিড আক্রমণ চলতে থাকে। সাধারণ স্পার্কলিং ওয়াটার তুলনামূলক কম ক্ষতিকর হলেও ফ্লেভারযুক্ত হলে ঝুঁকি বাড়ে।

অ্যাসিড, চিনি ও ক্যাফেইনের প্রভাব

অ্যাসিড এনামেল নরম করে, আর চিনি মুখের ব্যাকটেরিয়াকে সক্রিয় করে আরও অ্যাসিড তৈরি করে। ডায়েট সোডায় চিনি না থাকলেও অ্যাসিড থাকে। ক্যাফেইন লালা কমিয়ে দেয়, ফলে দাঁত স্বাভাবিকভাবে পরিষ্কার হওয়ার সুযোগ কমে যায়।

৩. স্পোর্টস ড্রিঙ্কস

এগুলো শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ করলেও দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। এতে সিট্রিক অ্যাসিড ও চিনি থাকে। ব্যায়ামের সময় লালা কম তৈরি হওয়ায় দাঁত আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

৪. এনার্জি ড্রিঙ্কস

এগুলোর গড় pH প্রায় ৩.৩। এতে অ্যাসিড, চিনি ও উচ্চমাত্রার ক্যাফেইন থাকে। এমনকি সুগার-ফ্রি হলেও অ্যাসিডের কারণে ক্ষতি হয়। কিছু ক্ষেত্রে এগুলো সোডার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর, কারণ এগুলো দীর্ঘ সময় অ্যাসিডিক থাকে এবং লালা সহজে নিরপেক্ষ করতে পারে না।

৫. ভিনেগারযুক্ত ও আচারজাত খাবার

ভিনেগার (যেমন অ্যাপল সিডার ভিনেগার) দাঁতে অ্যাসিটিক অ্যাসিডের প্রভাব ফেলে। অনেক সালাদ ড্রেসিংয়েও সিট্রিক অ্যাসিড থাকে। তবে কিছু অভ্যাস ঝুঁকি কমাতে পারে—

ক) ড্রেসিংয়ের সঙ্গে দুধজাত খাবার বা তেল মেশালে ঝুঁকি কমে

খ) খাবারের সঙ্গে অল্প পরিমাণে খেলে ভালো

গ) রাতে খেলে ঝুঁকি বাড়ে, কারণ তখন লালা কম তৈরি হয়

৬. চিনি ও স্টার্চযুক্ত স্ন্যাকস

কেক, চিপস, পাউরুটি ইত্যাদি মুখে গিয়ে চিনিতে রূপান্তরিত হয়। ব্যাকটেরিয়া এগুলো ভেঙে অ্যাসিড তৈরি করে। এসব খাবার দাঁতে লেগে থাকে, ফলে ক্ষতির সময়ও দীর্ঘ হয়।

৭. ক্যান্ডি

সব ক্যান্ডিই ক্ষতিকর, তবে কিছু আরও বেশি। এর মধ্যে হার্ড ক্যান্ডি ধীরে গলে, ফলে দীর্ঘ সময় দাঁতের সংস্পর্শে থাকে। টক ক্যান্ডিতে অ্যাসিড ও চিনি দুটোই থাকে। আর স্টিকি ক্যান্ডি দাঁতে লেগে থাকে; এসব কারণেই ক্যান্ডিগুলো দাঁতের জন্য ক্ষতিকর।

৮. শুকনো ফল

কিশমিশ, খেজুর, এপ্রিকট স্বাস্থ্যকর হলেও এতে চিনি থাকে এবং এগুলো দাঁতে লেগে থাকে। ফলে ব্যাকটেরিয়া বেশি সময় ধরে অ্যাসিড তৈরি করতে পারে।

৯. অ্যালকোহল

অ্যালকোহল অ্যাসিডিক এবং লালা কমিয়ে দেয়। ফ্লেভারযুক্ত ককটেলে চিনি ও সিট্রিক অ্যাসিড থাকে, যা আরও ক্ষতিকর। গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ককটেল সোডার চেয়েও বেশি এনামেল ক্ষয় করে। সাদা ওয়াইন লাল ওয়াইনের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর এবং ধীরে পান করলে ঝুঁকি বাড়ে।

১০. কফি ও চা

এগুলো সামান্য অ্যাসিডিক হলেও পরিমিত পরিমাণে নিরাপদ। তবে সারাদিন ধরে অল্প অল্প করে পান করলে দাঁতের ক্ষতি বাড়ে। ক্যাফেইন লালা কমায় এবং চিনি বা সিরাপ যোগ করলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। কম্বুচা চায়ের pH ২.৮–৩.৬, যা এনামেলের ক্যালসিয়াম ক্ষয় বাড়াতে পারে। বোতলজাত আইসড টি-তে সাধারণত বেশি সিট্রিক অ্যাসিড থাকে, তাই এটি বেশি ক্ষতিকর।

 

কীভাবে দাঁত রক্ষা করবেন

কিছু সহজ অভ্যাস আপনার দাঁতকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করতে পারে।

১. দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাসিডিক বা চিনিযুক্ত পানীয় চুমুক দিয়ে পান করবেন না

২. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

৩. অ্যাসিডিক খাবারের সঙ্গে দুধজাত খাবার খান

৪. খাবারের সঙ্গে ক্ষতিকর খাবার গ্রহণ করুন

৫. খাওয়ার পর পানি দিয়ে কুলি করুন

৬. স্ট্র ব্যবহার করুন (পানীয় দাঁতের পেছন দিকে নিতে)

 

ওরাল হাইজিন টিপস

১. নরম ব্রাশ ও ফ্লোরাইড টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করুন

২. প্রতিদিন ফ্লস ব্যবহার করুন

৩. সুগার-ফ্রি চুইংগাম চিবাতে পারেন

৪. নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে যান

৫. অ্যালকোহলমুক্ত মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন

৬. অ্যাসিডিক কিছু খাওয়ার পর ৩০-৬০ মিনিট অপেক্ষা করে ব্রাশ করুন

সূত্র : ভেরি ওয়েল হেলথ

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজধানীতে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

দিনের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রী সেলসিয়াস বাড়তে পারে

অধিকৃত পশ্চিম তীরে হামলায় এক ফিলিস্তিনি যুবক নিহত : স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

লিগ্যাল এইডের টোল ফ্রি নম্বরে ২ লাখের বেশি ব্যক্তিকে আইনি সেবা প্রদান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা উচিত : পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কিছু সহজ অভ্যাস আপনার দাঁতকে সুরক্ষিত করে

হজযাত্রীদের জন্য সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় সমঝোতা হয়নি: ভ্যান্স

১০

বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, চাংক্রান, বিষু ও চাংলান উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

১১

হাসপাতালে অনেকটা সুস্থ আছেন ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু : একান্ত সচিব

১২

ভবিষ্যৎ শিল্পের নেতৃত্ব কার হাতে

১৩

জনগণের দুর্দশার কথা চিন্তা করে তেলের দাম বাড়ায়নি সরকার: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

১৪

কক্সবাজার সীমান্তে পৃথক অভিযানে ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা জব্দ

১৫

কুমিরের মুখে কুকুর নিয়ে ক্ষুদ্ব তারকারা

১৬

লালমোহনে জমি বিরোধের জের ধরে পিটিয়ে আহত ৪

১৭

তুমিও ফেল আমিও ফেল: শিক্ষামন্ত্রী

১৮

খাগড়াছড়িতে জব্দকৃত এক হাজার পিস ইয়াবা ধ্বংস করলো ইউপিডিএফ

১৯

শ্রীপুরে বাজার ইজারা নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

২০