রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরির অভিযোগে স্থানীয় জনতার গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের উত্তর পানাপুকুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অটোরিকশা চুরির সন্দেহে তাঁদের ধাওয়া করে আটক করার পর পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতরা হলেন উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম ওরফে কানা এবং কোলকোন্দ ইউনিয়নের সাদিকুল ইসলাম।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোরে বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমান সোহেলের বাড়ি থেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন দুই ব্যক্তি। এ সময় বিষয়টি টের পেয়ে বাড়ির লোকজন চিৎকার শুরু করেন।
চিৎকার শুনে আশপাশের বাসিন্দারা এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে স্থানীয় একটি মসজিদের মাইক থেকে অটোরিকশা চুরির ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই ঘোষণা শুনে ফজরের নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লিসহ এলাকার লোকজন সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে ধাওয়া করেন।
ধাওয়া খেয়ে তাঁরা অটোরিকশাটি ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু স্থানীয় লোকজন তাঁদের পিছু নিয়ে উত্তর পানাপুকুর এলাকার একটি ধানখেতের কাছে আটক করেন। সেখানে উত্তেজিত জনতা তাঁদের বেধড়ক মারধর করেন। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সবুর জানান, প্রাথমিকভাবে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা গেছে, অটোরিকশা চুরির অভিযোগে গণপিটুনির ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অটোরিকশা চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই ব্যক্তির প্রাণহানির ঘটনা এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে। চুরির অভিযোগ সত্য কি না এবং গণপিটুনির ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, চুরির অভিযোগ থাকলেও কাউকে মারধর কিংবা হত্যা করার অধিকার কোনো ব্যক্তির নেই। অপরাধের অভিযোগ উঠলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করাই আইনসম্মত পথ।
মন্তব্য করুন