মোঃ মশিয়ার রহমান, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছচাপানী ইউনিয়নের স্থানীয় ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ ঘটাতে এবং যুব সমাজকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বহু বছর পর জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো বাংলার ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলা।২৪অক্টোবর(শনিবার)বিকালে দক্ষিণ সোনাখুলী সাতারুর চৌপুথি সংলগ্ন মাঠে এসকে এন্টারপ্রাইজ ও মা হোমিও হল -এর সার্বিক উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রীতি খেলায় গ্রামীণ খেলাধুলার আনন্দ উপভোগ করতে স্থানীয় বাসিন্দা ও কৌতূহলী দর্শকদের ঢল নামে। খেলাটিকে ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর ও উৎসব আনন্দে ভরপুর এক বর্ণিল পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলাটিতে সাবেক সহকারী শিক্ষক অহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে, উদ্বোধন করেন ডাঃ মোঃ মাহাবুবার রহমান স্বত্বাধিকারী মা হোমিও হল চাপানীহাট, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ রেজাউল করিম চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ৮নং ঝুনাগাছচাপানী ইউনিয়ন পরিষদ,বিশেষ অতিথি ছিলেন খাদেমুল ইসলাম বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক চাপানীহাট, সহির উদ্দিন বিশিষ্ট কসমেটিক ব্যবসায়ী চাপানীহাট, আব্দস সামাদ সহ সভাপতি আলোকিত যুব ফোরাম চাপানীহাট।
প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন ডাঃ মোশারফ হোসন, মমিনা ডেন্টাল কেয়ার চাপানীহাট, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডাঃ মোকছেদুল ইসলাম হেলথ কেয়ার চাপানীহাট, প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল মোতালেব প্রভাষক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন কলেজ গড্ডিমারী হাতিবান্ধা, বরেন্য অতিথি সহিদার রহমান সহকারী শিক্ষক হাতিবান্ধা দাখিল মাদ্রাসা, সার্বিক সহযোগিতায় ডাঃ মোঃ আহসান হাবিব লিমন আলেমা ডেন্ডিস কেয়ার চাপানীহাট। আমন্ত্রিত অতিথি মোঃ শফিকুল ইসলাম ডিজিটাল দলিল লেখক /সরকার।
সৌজন্যে মোঃ আতাউর রহমান আশিক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসকে এন্টারপ্রাইজ চাপানীহাট।
খেলাটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করেন অভিজ্ঞ রেফারি মোজাফফর হোসেন বিশিষ্ট সমাজসেবক চাপানীহাট। হাডুডু খেলার এই ব্যতিক্রমী ও সামাজিক আয়োজনে মূল ও বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন ডাঃ মাহাবুবার রহমান ও আতাউর রহমান আশিক।
খেলায় অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় আগত আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে যুব সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে মাদক এবং প্রযুক্তির ক্ষতিকর আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার অপরিহার্যতা তুলে ধরেন। অতিথিরা বলেন, “আমাদের দেশীয় ক্রীড়া সংস্কৃতি আজ বিলুপ্তির পথে। কিন্তু যুব সমাজ যদি নিয়মিত মাঠমুখী হয় এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে তারা খুব সহজেই সামাজিক ব্যাধি ও মাদক থেকে দূরে থাকতে পারবে।”
বক্তারা আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় আবারও ক্রীড়া ও সামাজিক আমেজে ফিরে আসুক প্রাণের ঝুনাগাছচাপানীতে অতীতের সব মলিনতা ও সামাজিক গ্লানি মুছে গিয়ে ঝুনাগাছচাপানীর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠুক—এটাই আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা।” স্থানীয়দের মতে, এমন স্বাস্থ্যকর ও সামাজিক উদ্যোগ এলাকায় নিয়মিত অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
খেলায় ছাতুনা একাদশকে ২পয়েন্টে হেরে বিজয়ী হন দক্ষিণ সোনাখুলী একাদশ।
মন্তব্য করুন