নিউজ ডেস্ক
২ ঘন্টা আগে
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ১ জন

যুদ্ধক্লান্ত উত্তর ইসরাইলিরা নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন পুনর্বিবেচনা করছেন

লেবানন সীমান্তবর্তী উত্তর ইসরাইলের যেসব এলাকায় হিজবুল্লাহ হাজার হাজার রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, সেখানকার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর একসময়ের সমর্থকরা এখন নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন, তা নতুন করে ভাবছেন।

যুদ্ধের পর এটিই হতে যাচ্ছে ইসরাইলের প্রথম নির্বাচন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইসরাইলের দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ডাকনাম ‘বিবি’ ব্যবহার করে গাছের চারা বিক্রির ব্যবসায়ী সিগাল মালাখি বলেন, ‘আমার পরিচিত অনেকেই ডানপন্থী ছিলেন ও বিবিকে সমর্থন করতেন। কিন্তু এখন আর করছেন না।’

নেতানিয়াহুর ঐতিহ্যগত সমর্থনের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতে অনেক ভোটার এএফপিকে জানিয়েছেন, আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে তারা আর তার ডানপন্থী সরকারকে সমর্থন করতে পারছেন না।

তাদের অভিযোগ, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইলে হামলা শুরু করে।

ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার পর, হামাসের সমর্থনে তারা ইসরাইলকে লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালায়।

টানা হামলায় উত্তর ইসরাইলের জনজীবন ব্যাপকভাবে বদলে যায়। হাজার হাজার মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়। মালাখির মতো অনেক ব্যবসায়ীকে বছরের পর বছর তাদের ব্যবসা বন্ধ রাখতে হয়েছে।

উত্তর ইসরাইলের বাসিন্দারা লেবানন সীমান্তের ওপার থেকে রকেট হামলার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত।
তবে তাদের মতে, এবারের সংঘাত ছিল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে তীব্র।

মালাখি বলেন, ‘আমরা কাতিউশা রকেট আর বোমার শব্দ শুনে বড় হয়েছি। কিন্তু এই যুদ্ধ ছিল ভিন্ন।’

মার্চে তার গাছের চারার নার্সারি আবার চালু হয়েছে।
যুদ্ধের সময়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘আপনি বাইরে বের হলে এক সেকেন্ডের মধ্যেই আশ্রয়ের দিকে দৌড়াতে হতো।’

২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাত সাময়িকভাবে থেমে যায়। তবে বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের ২০২৫ সালের শুরুর আগে বাড়ি ফিরতে দেওয়া হয়নি।

এরপর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবন ফিরতে শুরু করেছিল। কিন্তু ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উত্তর সীমান্তে আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে জন্ম নেওয়া ও দীর্ঘদিন ধরে ভূমধ্যসাগরের তীরে ইসরাইলের সবচেয়ে উত্তরের শহর নাহারিয়ায় বসবাসকারী ম্যাক্সিম জারবাইলভও এবার সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘সারা জীবন আমি লিকুদকে, বিবি নেতানিয়াহুকে ভোট দিয়েছি। কিন্তু এবার আমি (গাদি) আইজেনকোটকে ভোট দিতে চাই।’
আইজেনকোট সাবেক সেনাপ্রধান ও নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিমানের বলাকায় সাংবাদিক প্রবেশে দুই দিনের নিষেধাজ্ঞা, এমডির নির্দেশ

১

মেসির পর আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি কার গায়ে?

২

কুমিল্লায় গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

৩

জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন, গেজেট প্রকাশ

৪

যুদ্ধক্লান্ত উত্তর ইসরাইলিরা নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন পুনর্বিবেচনা করছেন

৫

বিদ্যুৎ, অর্থ ও জলবায়ু সংকট: কপ-৩১ সম্মেলনের আলোচনায় যা থাকছে

৬

পঞ্চগড়ের সাবেক এমপি নাঈমুজ্জামান মুক্তা গ্রে/প্তার

৭

রিয়াদ বিমানবন্দরসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হামলার দাবি হুথিদের

৮

সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে

৯

মেসির শেষ অনুশীলনে হাসি, পাগলামি এবং আরও অনেক কিছু

১০

শিশু অধিকার দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

১১

বিবাহিত জীবনে সুখে থাকার ‘রেসিপি’ কী, জানালেন আরিফিন শুভ

১২

শিক্ষকতাকে মেধাবীদের পছন্দের প্রথম পেশা করতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

১৩

নোবেল জয় : সাফল্যের একুশ শতক

১৪

পিতা-পুত্রের নোবেল জয়ের অনন্য রেকর্ড

১৫

জগন্নাথপুরে প্রয়াত নুর মিয়া চৌধুরীর সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে জটিলতা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

১৬

মামলা-কারাভোগ ও নির্যাতনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনার শীর্ষে শিমুল আহমেদ

১৭

সিদ্দিকী নাজমুল আলমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

১৮

রাজবাড়ীতে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

১৯

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬ নং ওর্য়াডের পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান

২০