নিউজ ডেস্ক
১ ঘন্টা আগে
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ১২ জন

জগন্নাথপুরে প্রয়াত নুর মিয়া চৌধুরীর সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে জটিলতা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার ৬নং রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কুবাজপুর আহমদাবাদ গ্রামের কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট সমাজসেবক, মৃত শাহ নুর মিয়া চৌধুরী বিশাল সম্পত্তির অধিকারী। মৃত শাহ নুর মিয়া চৌধুরীর সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বিরোধ, এলাকায় উত্তেজনা, যে কোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

যেমন বাগানবাড়ি ফিসারি, কন্ট্রোলরুম ফিসারি, গফাইখালি ডহর, রাজনখালি ডহর, বালুচর ফিসারি ও ফসলি জমি সহ এক বিশাল সম্পত্তির অধিকারী। মৃত শাহ নুর মিয়া চৌধুরীর ঔরসে ৫ ছেলে ৩ মেয়ে যেমন শাহ ছুবা চৌধুরী, শাহ সাহাব চৌধুরী, শাহ নেওয়াজ চৌধুরী, ফেরদৌসী চৌধুরী, শাহ কুতুব চৌধুরী, আলীমা বেগম চৌধুরী, ফাতেমা চৌধুরী, শাহ ইদুজ্জোহা চৌধুরী এবং একজন সনাতন ধর্মাবলম্বী ছেলে ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেন, তার নাম রাখা হয়েছে মোঃ আব্দুল্লাহ। শাহ নুর মিয়া চৌধুরী পালক পুত্র আব্দুল্লাহকে লালন পালন করে বিয়ে-শাদী দেন এবং পরিবারের সদস্য হিসাবে আব্দুল্লাহকে সম্পত্তির মালিকানার অগ্রাধিকারও দেওয়া হয়। শাহ নুর মিয়া চৌধুরীর ছেলে মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে বসবাস করে আসছেন। শাহ নুর মিয়া চৌধুরী ওরফে নুর চৌধুরী গত ২২ জানুয়ারি ১৯৯৮ ইং মৃত্যুবরণ করেন। পিতার মৃত্যুর পর এই বিশাল সহায় সম্পত্তি দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ সহ দেশে একাই বিশাল সম্পত্তি ভোগ করেন তাহার তৃতীয় পুত্র শাহ নেওয়াজ চৌধুরী। শাহ নেওয়াজ চৌধুরী জীবিত থাকা অবস্থায় গ্রামের ইয়াওর মিয়া, খলিল মিয়া গংদের নিকট কয়েকটি জলমহাল লিজ দিয়েছিলেন কিন্তু শাহ নেওয়াজ চৌধুরী হঠাৎ করে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত ৬ অক্টোবর ২০২৩ ইং মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর, ইয়াওর মিয়া ও খলিল মিয়া মৃত শাহ নুর মিয়া চৌধুরীর বিশাল সম্পত্তির উপর কুনজর দেয় এবং পুরো সম্পত্তি তাদের দখলে নেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করে কিছু অবৈধ কাগজপত্র তৈরি করে রেখেছিল। ছুবা চৌধুরী ও ইদুজ্জোহা চৌধুরী তাদের পিতার রেখে যাওয়া বিশাল সম্পত্তি রক্ষার জন্য বাংলাদেশে ইউসুফ আহমেদকে ম্যানেজার, আফাজ চৌধুরী ও মোঃ এনামুল হক রেজাউল করিমকে সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব অর্পণ করেন। তাহারা তিনজনের নেতৃত্বে কুবাজপুর আহমদাবাদ গ্রামের আলাল মিয়া, সাফর মিয়া ও শাহ ছুবা চৌধুরীর চাচাতো ভাই ভাতিজাদের একত্রিত করে খলিল গংদের নিকট থেকে মৃত শাহ নুর মিয়া চৌধুরীর সম্পত্তি উদ্ধার করতে অনেক হামলা-মামলা সহ প্রায় কোটি টাকা খরচ করে অবশেষে ষড়যন্ত্রকারী খলিল গ্যাংদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় বিশাল সম্পত্তি। এতে ইউসুফ, আফাজ, এনামুল, আলাল, সাফর, রাহিম চৌধুরী সহ আরও অনেকের উপর মামলা হয়। এখনো কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে। সম্পত্তি উদ্ধারের পর এক বছর সুশৃঙ্খলভাবে সকলে মিলেমিশে ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু আফাজ চৌধুরীর দায়িত্বে অনিয়ম ও চলাফেরায় সন্দেহ হলে আফাজ চৌধুরীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আফাজ চৌধুরীকে কেয়ারটেকারের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণে আফাজ, ছুবা চৌধুরীর পরিবারের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে শুরু করে নতুন এক ষড়যন্ত্র। আফাজ মিয়া সাহাব চৌধুরীকে, একাই বিশাল সম্পত্তির মালিক বানিয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে আয়ত্তে আনে। আফাজ চৌধুরীর কুপ্রস্তাবে রাজি হয়ে সাহাব চৌধুরী আগের পূর্ব শত্রু ইয়াওর, ছাতির ও খলিল গংদের সাথে হাত মিলিয়ে বিশাল বাহিনী তৈরি করে এবং পুরো সম্পত্তি শাহ সাহাব চৌধুরীর অধীনে নিতে নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। শাহ সাহাব চৌধুরী বাংলাদেশে আসার পর সুনামগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মহোদয় মৃত শাহ নুর মিয়া চৌধুরীর রেখে যাওয়া বিশাল সম্পত্তি তাহার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, পরিবারের ৭ জন সদস্য তার প্রস্তাবে রাজি হলেও একমাত্র সাহাব চৌধুরী পুলিশ সুপার মহোদয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইউকে চলে যান। পরে বাংলাদেশে তাদের আপন চাচাতো বড় ভাই সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন ও লন্ডনে সাহাব চৌধুরীর ১২ জন আত্মীয়-স্বজন মিলে সম্পত্তি বণ্টনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তাদের এই মহৎ উদ্যোগে সকল ভাই বোনরা রাজি হন কিন্তু সাহাব চৌধুরী কোনোভাবেই সম্পত্তি বণ্টনে রাজি নয়। এ বিষয়ে জালাল চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার আপন চাচাতো ভাই ছুবা চৌধুরী ও সাহাব চৌধুরী তাদের সম্পত্তির বিরোধ শেষের স্বার্থে লন্ডন-বাংলাদেশের আমাদের আত্মীয়স্বজনদেরকে সাথে নিয়ে অনেক চেষ্টা করেছি বিষয়টি মীমাংসার জন্য কিন্তু সকল ভাই বোন আমাদের সাথে একমত পোষণ করলেও সাহাব চৌধুরীকে কোনভাবে মানাতে পারিনি সে শর্ত দেয় তার শর্তের কারণে আজও বিষয়টি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। ছুবা চৌধুরীর চাচাতো ভাই ফারকাছ মিয়া এ প্রতিবেদককে বলেন পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আমি ছিলাম এসপি স্যার সাহাব চৌধুরীকে সম্পত্তি বণ্টনের জন্য অনুরোধ করলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ আতাউর রহমান মিলাদ মিয়ার সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন এ বিষয়টি মীমাংসার জন্য অনেকবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি, পরিবারের সকল সদস্য সম্পত্তি বণ্টন করতে চাইলেও সাহাব চৌধুরী সম্পত্তি বণ্টনের জন্য যে কন্ডিশন দেন সেই কন্ডিশনের কারণে বিষয়টি মীমাংসা করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে ফোনে মৃত শাহ নুর মিয়া চৌধুরীর ছেলে-মেয়েদের সাথে যোগাযোগ করা হলে ইদুজ্জোহা চৌধুরী, মৃত কুতুব চৌধুরীর ছেলে ইফতিকার জামান চৌধুরী, আলিমা চৌধুরী, ফাতেমা চৌধুরী সকলের পক্ষ থেকে শাহ ছুবা চৌধুরী এ প্রতিবেদককে জানান, আমরা ৫ ভাই ৩ বোন সবাই লন্ডনে বসবাস করি, আমার দুই ভাই মৃত্যুবরণ করেন। আমাদের বাবার রেখে যাওয়া বিশাল সম্পত্তি শাহ নেওয়াজ চৌধুরী দেশে দীর্ঘদিন দেখাশোনা করে। হঠাৎ সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। আমি ও আমরা ভাই বোনরা একত্রিত হয়ে আমাদের পিতার সম্পত্তি ইসলামী ও সরকারি আইন মোতাবেক ভাগবাটোয়ারা করে নিতে চাই। তবে আমার ভাই সাহাব সম্পত্তি বণ্টন করতে চায় না। তার উদ্দেশ্য একাই বিশাল সম্পত্তি ভোগদখল করবে। আমাদের দুই ভাইকে ২০ কেয়ার জমি এক্সট্রা দিতে রাজি হই। এখন আফাজ আমার ভাই সাহাবকে সম্পত্তির লোভ দেখিয়ে সেই পূর্ব শত্রু খলিল, ছাতির, ইয়াওরদের সাথে হাত মিলিয়ে বিশাল একটা বাহিনী তৈরি করে পুরো সম্পত্তি দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠছে। আমরা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের নিকট আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রার্থনা আমাদের সম্পত্তি রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করছি। এ বিষয়ে শাহ সাহাব চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এড. জিয়াউর রহমান পীর বলেন, আমি জগন্নাথপুর থানাধীন কোবাজপুর সাকিনস্থ শাহ নূর মিয়া চৌধুরীর ছেলে বর্তমানে মৃত শাহ নেওয়াজ চৌধুরী ও আকিব চৌধুরী গংদের লিগ্যাল এডভাইজার হিসেবে আছি। শাহ নুর মিয়া চৌধুরী মৃত্যুকালে ১ স্ত্রী, পাঁচ পুত্র ও তিন কন্যাকে রাখিয়া মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে শাহ নূর মিয়া চৌধুরীর স্ত্রী মিসেস নেহেরুন চৌধুরীও মৃত্যুবরণ করেন। শাহ নুর মিয়া চৌধুরী ও তাহার স্ত্রী নেহেরুন চৌধুরীর সম্পদ বণ্টনের বিষয়ে আমার লিগ্যাল অপিনিয়ন হল, মুসলিম পার্সোনাল ল অনুযায়ী প্রত্যেক ছেলে প্রত্যেক মেয়ের দ্বিগুণ সম্পত্তি পায় এবং প্রত্যেক মেয়ে প্রত্যেক ছেলের অর্ধেক সম্পত্তি পায়। আইন অনুযায়ী এটাই আমার মতামত। কুবাজপুর গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান ইয়াওর মিয়া, খলিল মিয়া গংদের নিকট মৃত শাহ নুর মিয়া চৌধুরীর সম্পত্তি জিম্মি ছিল, তাদের মরহুম পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য শাহ ছুবা চৌধুরী, শাহ সাহাব চৌধুরী সহ সকলের সমন্বয়ে হামলা মামলাসহ অনেক টাকা খরচ করে এ বিশাল সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়। বছরখানেক যাওয়ার পর সেই আফাজ চৌধুরী সাহাব চৌধুরীকে সম্পত্তির লোভ দেখিয়ে তাদের পূর্ব শত্রুদেরকে সাথে নিয়ে বিশাল বাহিনী তৈরি করে সম্পত্তি গ্রাস করার উদ্দেশ্যে নুর মিয়া চৌধুরীর ছেলেদের মধ্যে বিরোধ তৈরি করে। একসময় আফাজ চৌধুরী শাহ ছুবা চৌধুরীর নৌকার মাঝি ছিল এখন সে তাদের সাথে মীরজাফরী করে ইয়াওর মিয়ার নৌকার পালে বাতাস দিচ্ছে। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। সংঘর্ষ এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছেন সচেতন মহল।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শিক্ষকতাকে মেধাবীদের পছন্দের প্রথম পেশা করতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

১

নোবেল জয় : সাফল্যের একুশ শতক

২

পিতা-পুত্রের নোবেল জয়ের অনন্য রেকর্ড

৩

জগন্নাথপুরে প্রয়াত নুর মিয়া চৌধুরীর সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে জটিলতা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

৪

মামলা-কারাভোগ ও নির্যাতনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনার শীর্ষে শিমুল আহমেদ

৫

সিদ্দিকী নাজমুল আলমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

৬

রাজবাড়ীতে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

৭

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬ নং ওর্য়াডের পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান

৮

যশোরের শার্শা-বেনাপোলে পাটখড়ির দামে লাভবান কৃষকেরা

৯

ডিমলায় যথাযথ মর্যাদায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

১০

বীরগঞ্জে শিক্ষক দিবস উদযাপন, র‍্যালি ও আলোচনা সভা

১১

হোটেল শ্রমিকদের দাবিতে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি

১২

ধনবাড়ীতে ৫২ (বায়ান্ন) পিস ই*-য়া*বা ট্যা/বলেটসহ ০৩ জন গ্রে/ফ/তার

১৩

ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে মন্টেনিগ্রো পার্লামেন্টের সদস্যের সাক্ষাৎ

১৪

স্ট্যাটাসকো অমান্য করে,অবৈধ সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকা মালিক কল্যাণ সমিতির সংবাদ সম্মেলন

১৫

সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : প্রধানমন্ত্রী

১৬

সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিতের লক্ষ্যে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব বসতি দিবস

১৭

গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

১৮

আগামী ইউপি নির্বাচনে মেম্বার পদপ্রার্থী হিসাবে দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশী শ্রী রতন শীল।

১৯

সাংবাদিকদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের অন্যায় -অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহবান

২০