ইয়েমেন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েনের পর প্রথমবারের মতো মুখোমুখি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও সৌদি আরবের শীর্ষ নেতৃত্ব।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে মঙ্গলবার সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন শেখ মনসুর। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
চলতি বছরের জুলাইয়ে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তা ও মন্ত্রীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৌদি-আমিরাতের বন্ধুত্ব ও ঐক্যের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্য দিয়ে কয়েক মাস ধরে চলা প্রকাশ্য মতবিরোধের পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট, উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্সিয়াল কোর্টের প্রধান শেখ মনসুর বিন জায়েদকে মঙ্গলবার সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
আমিরাতের সরকারি বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএম জানিয়েছে, শেখ মনসুর ওই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং মঙ্গলবার ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সফরে’ সৌদি আরব যাবেন।
জুলাইয়ে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির সময়, সৌদি জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান তুর্কি আলালশেখ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের পাশে শেখ মনসুরের একটি ছবি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ছবিটি কয়েক দিন আগে তোলা হয়েছিল।
ইয়েমেনে হুথিদের হামলার পর সৌদি আরব যখন ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছে, তখন আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্টের এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হুথিরা সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজ, তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর এবং এমনকি দেশটির রাজধানী লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকার নিয়ন্ত্রণও নিয়েছে।
ইয়েমেন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তার জন্য গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরব বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলে মার্কিন সমর্থন চেয়েছেন।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজ ট্রাম্পকে হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সহায়তা করার জন্য আবারও অনুরোধ করেছেন। এর আগে অ্যাক্সিওস জানিয়েছিল, একই ধরনের একটি অনুরোধ গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
এদিকে শুক্রবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রধানরা বৈঠক করেন। বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের হামলা বাড়তে থাকায় দেশটিকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হয়।
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দেয় গত ডিসেম্বরে। তখন সৌদি আরব অভিযোগ করে, আবুধাবি দক্ষিণ ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন দিয়ে সৌদি আরবের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। ওই বিচ্ছিন্নতাবাদীরা অল্প সময়ের জন্য একটি সামরিক অভিযানও চালিয়েছিল।
ইয়েমেন ছাড়াও সুদান ও আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলসহ বিভিন্ন পররাষ্ট্রনীতির ইস্যুতে সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এসব অঞ্চলে দুই দেশ অনেক সময় পরস্পরবিরোধী পক্ষকে সমর্থন করেছে।
মন্তব্য করুন