মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া উপদ্বীপের কিছু এলাকায় সোমবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এদিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে হারিকেন পোলো আছড়ে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এরই মধ্যে সমুদ্রের পানি উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বাঁধ উপচে পড়ায় বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ক্যাটাগরি-৩ মাত্রার এই ঝড় চলতি বছরের মৌসুমে স্থলভাগে আঘাত হানতে যাওয়া প্রথম হারিকেন। নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে নজিরবিহীন উষ্ণতা সৃষ্টি করা এল নিনো আবহাওয়াজনিত কারণে ঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) জানিয়েছে, পোলো বাজা ক্যালিফোর্নিয়া উপদ্বীপের দক্ষিণাঞ্চল অতিক্রম করার সময় প্রচণ্ড বৃষ্টি ও হারিকেন-গতির বাতাস বয়ে আনতে পারে।
মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
পোলোর গতিপথে থাকা বাজা ক্যালিফোর্নিয়া সুর রাজ্যের প্রায় ৬ হাজার মানুষের ছোট মৎস্যবন্দর পুয়ের্তো সান কার্লোসে প্রবল বাতাসে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠেছে। উপকূলের কাছাকাছি ঢেউও অনেক বেড়ে গেছে।
এএফপির প্রতিবেদকেরা জানান, শহরটির কয়েকটি স্থানে বালুর তৈরি প্রতিরক্ষা বাঁধ ইতোমধ্যে সমুদ্রের পানির তোড়ে ভেঙে গেছে। ফলে রাস্তায় পানি ঢুকে পড়েছে।
শহরটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। প্রবল বাতাসে খেজুরগাছগুলো প্রচণ্ডভাবে দুলতে থাকে।
৫৩ বছর বয়সী হুয়ান ম্যানুয়েল সারাবিয়া নিজের বাড়ির সামনের অংশ কাঠ দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন।
তিনি এএফপিকে বলেন, ‘ঝড়টিএটি পুরো শক্তি নিয়েই আসছে।’
পুয়ের্তো সান কার্লোসে সেনাসদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের তাদের সাধারণ কাঠের ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তবে সালভাদর পালমা যেতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় হারিকেনের সময় এখানে থেকেছি, আমার কখনো কিছু হয়নি। আমি ঈশ্বরের ওপর আস্থা রাখি।’
সাত সদস্যের পরিবারের সঙ্গে এখানেই তিনি বেশি নিরাপদ বোধ করেন বলেও জানান।
মন্তব্য করুন