কর্মের মাধ্যমে পেশাগত দক্ষতা অর্জন করে সাংবাদিকতার জগতে নিজেদের উজ্জ্বল অবস্থান তৈরি করতে তরুণ সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক গাজীউল হাসান খান।
নিজের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
গাজীউল হাসান খানের জন্মদিন উপলক্ষে কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা (সিজেএফডি) সোমবার সন্ধ্যায় এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সংবর্ধনার জবাবে তিনি জন্মদিনে এ আয়োজন করায় কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরামের নেতৃবৃন্দের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
সিজেএফডির সভাপতি সাঈদ আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম। অনুষ্ঠানে বাসসের প্রধান বার্তা সম্পাদক (বাংলা) মুরসালিন নোমানী, প্রধান প্রতিবেদক (বাংলা) দিদারুল আলম দিদার, সিজেএফডির সাবেক সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন, সাবেক সহ-সভাপতি এম এস দোহা, সংগঠনের বর্তমান সহ-সভাপতি সালাম ফারুক ও নাসরিন সুলতানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনির আহমাদ জারিফ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক কাজী দীন মোহাম্মদ বেলাল, দপ্তর সম্পাদক আশিকুর রহমান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাবু, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক আহমেদ আজম, ইভেন্ট ও আপ্যায়ন সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বিপ্লব সিকদার, নির্বাহী সদস্য আব্দুর ওদুদ ও কমল চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
গাজীউল হাসান খানের কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত করে খুরশীদ আলম বলেন, তার দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবন দেশের সাংবাদিকতা অঙ্গনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার পেশাগত অভিজ্ঞতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সমকালীন বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখালেখি নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
মুরসালিন নোমানী বলেন, গাজীউল হাসান খানের মতো একজন প্রবীণ সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন শুধু ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা জানানোর আয়োজন নয়; বরং সাংবাদিকতার দীর্ঘ ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরারও একটি সুযোগ।
বাসস এর চিফ রিপোর্টার দিদারুল আলম বলেন, জনাব খানের কর্মময় জীবন সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ববোধ, দেশপ্রেম ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জোগায়।
১৯৪৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন গাজীউল হাসান খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর এবং সাংবাদিকতায় উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের পর তিনি সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন। ১৯৭০ সালে ইস্টার্ন নিউজ এজেন্সিতে প্রতিবেদক হিসেবে তার সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা হয়।
মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি স্বাধীনতার পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
সাংবাদিকতা পেশায় দীর্ঘ সময় দেশে ও বিদেশে কাজ করেছেন গাজীউল হাসান খান। লন্ডনে অবস্থানকালে সাংবাদিকতা ও সম্পাদনার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চায় ভূমিকা রাখেন। সেখানে ‘দেশবার্তা’ প্রকাশনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কাজ করেন তিনি।
১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রেস ও তথ্যবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন গাজীউল হাসান খান। পরে দেশে ফিরে ২০০৪ সালে তিনি বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সাংবাদিকতায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে। এরপরও তিনি কলাম লেখা ও বিশ্লেষণধর্মী সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে দেশ-বিদেশের রাজনীতি, সমাজ, রাষ্ট্র ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে।
মন্তব্য করুন