মালি সেনাবাহিনী ও রাশিয়ার আধাসামরিক বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপের সদস্যরা যৌথ অভিযানে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা ও নির্যাতনসহ যুদ্ধাপরাধ করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মঙ্গলবার প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
২০২০ ও ২০২১ সালে দ’ুটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা মালির সামরিক জান্তা জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাশিয়ার সহায়তা নেয়। এ সময় তারা ওয়াগনার গ্রুপের আধাসামরিক সদস্যদেরও নিয়োগ করে। পরে এই বাহিনী আফ্রিকা কোর-এ রূপ নেয়।
ডাকার থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
এর আগেও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা মালিতে অভিযান চালানোর সময় মালি সেনাবাহিনী ও রুশ আধাসামরিক বাহিনীর হাতে বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার অভিযোগ করেছে।
অ্যামনেস্টির নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মধ্যাঞ্চলের সেগু ও মপতি এবং উত্তরের টিমবুকটু অঞ্চলের সাতটি স্থানে অন্তত ৩৪ বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর তথ্য তারা নথিবদ্ধ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের কেউই মৃত্যুর সময় সরাসরি কোনো সংঘাতে অংশ নিচ্ছিলেন না।
এতে বলা হয়, পালিয়ে যাওয়ার সময় বা গ্রেপ্তারের পর কয়েকজনকে ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। কারও গলা কেটে দেওয়া হয়। আবার কাউকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়। কয়েকজনের মরদেহও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে টিমবুকটু অঞ্চলের ছোট একটি জনপদ টিন আদান্দার ঘটনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী ও ওয়াগনারের যৌথ টহলের সময় চারজন নিহত হন।
অ্যামনেস্টি একই অঞ্চলে ২০২৫ সালের মার্চ ও নভেম্বরে চালানো দুটি ড্রোন হামলার কথাও জানিয়েছে। ওই হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচটি শিশু ছিল।
সংস্থাটি আরও জানায়, যৌথ সামরিক ও ওয়াগনার বাহিনীর টহলের সময় অথবা লেরে ও নামপালা সামরিক ঘাঁটিতে আটক অবস্থায় নির্যাতন বা দুর্ব্যবহারের শিকার ১৫ জন পুরুষের সাক্ষ্য তারা সংগ্রহ করেছে।
সাক্ষীরা টহল ও সামরিক ঘাঁটিতে ৩০ জনকে নির্যাতনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, নির্যাতন অথবা ঘাঁটির অমানবিক পরিস্থিতির কারণে সেখানে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
অ্যামনেস্টির মতে, নিহত ও নির্যাতনের শিকারদের বিপুলসংখ্যকই ফুলানি, আরব ও তুয়ারেগ যাযাবর সম্প্রদায়ের সদস্য।
সংস্থাটি বলেছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগসাজশের সন্দেহে কিছু ব্যক্তিকে শুধু তাদের জাতিগত পরিচয় এবং ওই গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় এমন এলাকায় তাদের উপস্থিতির কারণে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এপ্রিল মাসে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস (এফআইডিএইচ)সহ তিনটি নাগরিক অধিকার সংগঠন মালি সেনাবাহিনী ও ওয়াগনারের বিরুদ্ধে কথিত নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আফ্রিকান ইউনিয়নের মানবাধিকার আদালতে মামলা করে।
মন্তব্য করুন