মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের পাউলি এলাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন নির্মাণ করায় স্বস্তি ফিরেছে কয়েকটি ফসলি মাঠের কৃষকদের মধ্যে। মাটির নিচ দিয়ে কংক্রিটের পাইপ বসিয়ে নির্মিত এ ড্রেনের মাধ্যমে পাঁচটি মাঠের অতিরিক্ত পানি দ্রুত সরকারি খালে গিয়ে পড়ছে। এতে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা থেকে উপকৃত হচ্ছেন স্থানীয় হাজারো কৃষক।স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে নবাবগঞ্জ-আমনুরা সড়কের কালভার্টের নিচ দিয়ে মাঠের অতিরিক্ত পানি ফসলি জমির ওপর দিয়ে নিষ্কাশিত হতো। এতে নিচু এলাকার জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হতো। পাশাপাশি পানি পুরোপুরি নামতে ৭ থেকে ৮ দিন পর্যন্ত সময় লাগত। ফলে অনেক সময় নিচু জমির ধান নষ্ট হয়ে কৃষকদের লোকসান গুনতে হতো।
কৃষকদের এ দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে কৃষি উদ্যোক্তা উমর ফারুক নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্ট থেকে সরকারি খাল পর্যন্ত মাটির নিচ দিয়ে কংক্রিটের পাইপ বসিয়ে ড্রেন নির্মাণ করেন। এতে এখন ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যেই মাঠের অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন হচ্ছে। একই সঙ্গে ড্রেনের ওপরের জমিও চাষাবাদের উপযোগী করা সম্ভব হয়েছে।কৃষি উদ্যোক্তা উমর ফারুক বলেন, ‘কৃষকদের দীর্ঘদিনের সমস্যা দেখে নিজ উদ্যোগে ড্রেনটি নির্মাণ করেছি। এতে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। কৃষকদের পানি নিষ্কাশনের সমস্যা কিছুটা হলেও দূর করতে পেরে ভালো লাগছে।’ কৃষক তারেক রহমান, আব্দুর রহিম ও আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই কালভার্টের নিচ দিয়ে আমনুরা-সংলগ্ন এলাকার অন্তত পাঁচটি মাঠের পানি নিষ্কাশন হয়।
আগে ফসলি জমির ওপর দিয়ে পানি যাওয়ায় নিচের দিকের জমির ধান নষ্ট হয়ে যেত। পানি নামতেও দীর্ঘ সময় লাগত। এখন ড্রেন নির্মাণের পর দ্রুত পানি নেমে যাচ্ছে। এতে হাজার হাজার কৃষক উপকৃত হয়েছেন। ঝিলিম ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, আগে ফসলি জমির ওপর দিয়ে পানি নিষ্কাশন হওয়ায় কৃষকদের সমস্যা হতো। বর্তমানে ড্রেনের মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবে পানি নেমে যাচ্ছে। এতে কৃষকদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না, বরং তারা সুবিধা পাচ্ছেন।স্থানীয় কৃষকরা জানান, কৃষকের স্বার্থে ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মিত এ ড্রেনটি এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা ড্রেনটির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সরকারি উদ্যোগে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার আরও উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন