লিড নিউজ ২৪ ডেস্ক:
সিলেটে চুরির চেষ্টার অভিযোগে এক তরুণীর (২০) কোমরে শিকল বেঁধে প্রকাশ্যে রাস্তায় টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার রাতে সিলেট নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— শাহজালাল উপশহর এলাকার বাসিন্দা ও অভিযুক্ত দোকানের মালিক জাকির হোসেন (৪৩), তার ভাই মোজাক্কির হোসেন (৪০) এবং একই এলাকার বোরহান উদ্দিন (৪৫)।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত:
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে শাহজালাল উপশহরের বি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার একটি দোকানে চুরির চেষ্টার অভিযোগে ওই তরুণীকে আটক করেন ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় কয়েকজন। পরবর্তীতে রাত ১১টার দিকে তাকে কোমরে শিকল ও তালা পরিয়ে রাস্তায় হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বোরকা পরিহিত ওই তরুণীর কোমরে শিকল বাঁধা অবস্থায় এক ব্যক্তি তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। তরুণী কাঁদতে কাঁদতে হাত ও কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকার চেষ্টা করলে সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা তাকে কাঁদতে নিষেধ করেন এবং ‘মুখ খোলা রাখ, মানুষ চিনবে’ বলে কটূক্তি করতে থাকেন।
সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেছে:
স্থানীয় একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বোরকা পরা তিনজন নারী ওই দোকানে প্রবেশ করেন। দোকানে থাকা এক শিশু তাদের বিভিন্ন পণ্য দেখাচ্ছিল। একপর্যায়ে দুজন নারী শিশুটির সঙ্গে সামনের অংশে গেলে অপর নারী দোকানের ভেতরে মাথা নুইয়ে ক্যাশবাক্সে টান দেন। তবে তিনি ক্যাশবাক্স থেকে টাকা নিতে পেরেছেন কি না, তা ফুটেজে স্পষ্ট নয়।
দোকানের এক কর্মচারী জানান, চুরির বিষয়টি সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখে দোকানের মালিক দৌড়ে গিয়ে একজনকে আটক করেন। খবর পেয়ে প্রথমে পুলিশ এলেও স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে পুলিশকে ফিরিয়ে দেয়। পরে রাতে আবারও পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে তরুণীকে থানায় নিয়ে যায়।
পাশের দোকানের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মেয়েটি চুরির চেষ্টা করেছিল ঠিক, তবে তাকে পুলিশে না দিয়ে এভাবে শিকল দিয়ে বেঁধে রাস্তায় ঘোরানোটা মোটেও উচিত হয়নি।”
পুলিশের পদক্ষেপ:
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মনজুরুল আলম জানান, প্রথমবার পুলিশ গেলে স্থানীয়রা মীমাংসার কথা বলায় পুলিশ ফিরে আসে। পরে রাতে আবার খবর পেয়ে পুলিশ তরুণীকে থানায় নিয়ে যায়, তবে চুরির কোনো লিখিত অভিযোগ কেউ দায়ের করেনি।
শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ জানান, তরুণীকে অমানবিক নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ বাদী হয়ে ওই তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের বিরুদ্ধে তরুণীকে আটকে রেখে নির্যাতন, শ্লীলতাহানি এবং তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আসামিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, ওই তরুণীকে আদালতে পাঠানোর পর মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, তার বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায়।
মন্তব্য করুন