আশুলিয়ার জামগড়ায় তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে নবজাতকসহ তিন জনের গলিত লাশ উদ্ধারের আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের রহস্য তিন দিনের মধ্যে উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা। এ ঘটনায় জড়িত মূল ঘাতক মনিরুজ্জামান হৃদয়কে (৪৪) গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে ভিকটিম নারীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিম, পরিচয়পত্র ও হ্যান্ড পার্স উদ্ধার করেছে পুলিশ।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিঃ আশুলিয়া থানার জামগড়া এলাকার হযরত আলীর বাড়ির ২য় তলার ৫৬ নং কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে তালাবদ্ধ ঘর থেকে আলমগীর কবির (৪৫), তার স্ত্রী নাজমা খাতুন (৩৯) এবং একটি সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। ভিকটিমদের বাড়ি দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ এলাকায়।
এ ঘটনায় নাজমার বড় বোন মোসাঃ শাপলা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পিবিআই ঢাকা জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ মোস্তফা কামালের দিক নির্দেশনায় এবং পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম, এন, মোর্শেদের তত্ত্বাবধানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৮ সেপ্টেম্বর নরসিংহপুর এলাকা থেকে আসামি মনিরুজ্জামান হৃদয়কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামির গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা এলাকায়।
পরকীয়া ও হাতাহাতির জেরে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড
পিবিআই-এর জিজ্ঞাসাবাদ ও আসামির জবানবন্দি পর্যালোচনায় জানা যায়, আসামি হৃদয়ের সঙ্গে ভিকটিম নাজমার দীর্ঘদিনের প্রেম ও শারীরিক সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি নাজমার স্বামী আলমগীর জানতে পারলে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন নাজমা ও আলমগীর আসামি হৃদয়কে তাদের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির একপর্যায়ে হৃদয় নাজমার পেটে সজোরে লাথি মারে, যার ফলে নাজমা ও তার গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়।
এরপর আলমগীর আসামিকে আঘাত করলে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে হৃদয় আলমগীরকে মারধর করে এবং গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে মরদেহগুলো খাটের ওপর ফেলে রেখে ভিকটিম নাজমার পার্স, ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।
গ্রেফতারের পর আসামি মনিরুজ্জামান হৃদয় বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম, এন, মোর্শেদ, পিপিএম জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হয়েছে এবং ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন