‘নিউ সোহাগ প্রাইভেট লিঃ’ বাসের ভেতরেই মালিকের নাটক, প্রতিবাদ করায় যাত্রীদের সাথে হেলপারের দুর্ব্যবহার
মো মামুন হাজী লালমোহন :
প্রশাসনের কঠোর নজরদারির আশ্বাসকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঈদফেরত যাত্রীদের জিম্মি করার প্রকাশ্য উৎসব মেতেছে ‘নিউ সোহাগ প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি পরিবহন কোম্পানি। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পরও যাত্রীদের পশুর মতো দাঁড়িয়ে যেতে বাধ্য করার এক নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক চিত্র সামনে এসেছে।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, আবু গঞ্জ থেকে চট্টগ্রামগামী ‘নিউ সোহাগ প্রাইভেট লিঃ’-এর বাসে স্বাভাবিক সময়ের ৭০০ টাকার ভাড়া এক লাফে ১০০০ টাকা করা হয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত ৩০০ টাকা গুনেও সাধারণ মানুষের ভাগ্য জোটেনি কাঙ্ক্ষিত আসন। সিট না দিয়ে উল্টো মাঝপথ থেকে অতিরিক্ত যাত্রী বাসে তুলে গাদাগাদি করে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে পুরো পথ।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ও ধৃষ্টতার বিষয় হলো, এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি যখন বাসের ভেতরেই চলছিল, তখন স্বয়ং ওই বাসের মালিক বাসের ভেতরেই আসন জুড়ে বসে ছিলেন। যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া ও সিট না পাওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানালে, পাশে বসে থাকা মালিক নিজেকে আড়াল করতে ‘আমি বাসের মালিক নই’ বলে নাটকীয়তার আশ্রয় নেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মালিকের প্রত্যক্ষ আশকারায় নিউ সোহাগ পরিবহনের হেলপার ও বাস স্টাফরা প্রতিবাদী যাত্রীদের সাথে চরম অসৌজন্যমূলক, রুক্ষ ও আপত্তিকর আচরণ করে।
ভুক্তভোগী এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নিউ সোহাগ প্রাইভেট লিমিটেডের ওপর ভরসা করে ৭০০ টাকার ভাড়া ১০০০ টাকা দিলাম। ভেবেছিলাম শান্তিতে যাব। কিন্তু আবু গঞ্জ থেকে ওঠার পর থেকেই চট্টগ্রাম পর্যন্ত দাঁড়িয়ে যেতে হচ্ছে। বাসের মালিক নিজেই আমাদের পাশে বসা, অথচ তিনি বলছেন তিনি নাকি মালিক না! তার সামনেই হেলপাররা আমাদের সাথে জানোয়ারের মতো ব্যবহার করছে। আমরা কি বাড়তি টাকা দিয়ে এই অপমান কিনতে এসেছি?”
প্রতি বছর ঈদ আসলেই পরিবহন সেক্টরের এই সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং যাত্রী হয়রানি নিয়মে পরিণত হয়েছে। ‘নিউ সোহাগ প্রাইভেট লিঃ’-এর মতো নামধারী পরিবহনের এই স্বেচ্ছাচারিতা ও বাসের ভেতর চালক-সহকারীদের এমন জঘন্য আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ফুঁসে উঠেছে সাধারণ যাত্রীদের মাঝে।
ঈদযাত্রায় এই চরম ভোগান্তি, জালিয়াতি এবং যাত্রী লাঞ্ছনার হাত থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে উক্ত বাস মালিক ও স্টাফদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রুট পারমিট বাতিলের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
মন্তব্য করুন