লিড নিউজ ২৪, ঢাকা:
দেশের অন্তত ৩০টি ব্যাংকের গ্রাহক কার্ড ও ডিজিটাল লেনদেন করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন। নেটওয়ার্কভিত্তিক পেমেন্ট সুইচ ‘কিউ-ক্যাশ’-এর প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, সিস্টেম মাইগ্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের কারণে এসব ব্যাংকের এটিএম ও কার্ডভিত্তিক বিভিন্ন সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গ্রাহকদের স্বাভাবিক লেনদেন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কিউ-ক্যাশ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আইটি কনসালট্যান্টসের (আইটিসি) কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি নিয়ে তলব করা হয়েছে এবং কার্ডভিত্তিক সেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কে প্রযুক্তিগত কাজ শুরু হয়। এর প্রভাবে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ব্যাংকের কার্ড, এটিএম ও ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি)-সংশ্লিষ্ট কিছু ডিজিটাল লেনদেন সেবায় সমস্যা দেখা দেয়।
কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতায় থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পেমেন্ট সুইচ বা বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে, তারা সীমিত পরিসরে নিজেদের কার্ডভিত্তিক সেবা চালু রাখতে পারছে। তবে যেসব ব্যাংকের বিকল্প ব্যবস্থা নেই, তাদের গ্রাহকেরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন।
এসব ব্যাংকের অনেক গ্রাহক এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে পারছেন না। পাশাপাশি কার্ডের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, অনলাইন বা ই-কমার্সে লেনদেন এবং বিদেশে কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সমস্যা হচ্ছে। এমনকি কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে বেতন উত্তোলনেও সমস্যার মুখে পড়েছেন।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এনপিএসবি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও অন্যান্য পেমেন্ট সেবা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কিউ-ক্যাশের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কার্যক্রম আগামী ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে লেনদেনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। দ্রুত কার্ড ও এটিএম সেবা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
মন্তব্য করুন