নিউজ ডেস্ক
২ ঘন্টা আগে
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ১২ জন

সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিতের লক্ষ্যে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব বসতি দিবস

‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে বিশ্ব বসতি দিবস। প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার দিবসটি পালিত হয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৯৮৫ সালে অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবারকে বিশ্ব বসতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরের বছর ১৯৮৬ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। প্রতিবছরই ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপাদ্য নিয়ে পালিত হয় দিবসটি। ‘বাসস্থান আমার অধিকার’ প্রতিপাদ্য নিয়ে দিবসটি প্রথমবারের মতো কেনিয়ার নাইরোবিতে পালিত হয়। বাংলাদেশেও প্রতিবছর দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

আজ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দিবসটি উদযাপন ও বসতি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ মেলার উদ্বোধন করবেন।

মানুষের নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য উৎপাদন, সামাজিক জীবন ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজন থেকেই বসতির ধারণার বিকাশ ঘটে। একটি নির্দিষ্ট স্থানে মানুষ একত্রিত হয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করাকে মানব বসতি বলা হয়। ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও মানুষের জীবিকা নির্বাহের ধরন অনুযায়ী মানব বসতি সাধারণত গ্রামীণ ও শহুরে- এই দুই ধরণের।

যে বসতির সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসী জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রথম পর্যায়ের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বা কৃষির ওপর নির্ভরশীল, তাকে গ্রামীণ বসতি বলে। অপরদিকে যে বসতি অঞ্চলের অধিকাংশ অধিবাসী প্রত্যক্ষ ভূমি ব্যবহার ছাড়া অন্যান্য অকৃষিকাজে নিয়োজিত থাকেন, তাকে শহুরে বসতি বলা হয়।

বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ণের ফলে আবাসনের চাহিদা বাড়লেও সবার জন্য নিরাপদ, পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য নগর এলাকায় সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ সীমিত। একই সঙ্গে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাশয় ও কৃষিজমি ভরাট, যানজট, নাগরিক সেবার অসম বণ্টন এবং ঢাকাকেন্দ্রিক কর্মসংস্থানের কারণে নগরজীবনে চাপ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু নতুন আবাসিক এলাকা তৈরি করে দেশের আবাসন সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। নিম্নআয়ের মানুষের সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট ও সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিট তৈরি, সরকারি-বেসরকারি আবাসন প্রকল্পে তাদের জন্য জমি ও আবাসনের ব্যবস্থা এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে হবে।

এবারের বিশ্ব বসতি দিবসের প্রতিপাদ্য বাংলাদেশের জন্যও বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। দেশের ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের বাস্তবতায় সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন, পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধার সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

নগরপরিকল্পনাবিদরা বলছেন, সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করতে ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়ন কমিয়ে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। পাশাপাশি সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগ বাড়ানোর পাশাপাশি আবাসন নির্মাণে কৃষিজমি, জলাশয় ও জলাভূমি রক্ষা করতে হবে। কোথায় আবাসন হবে, কোথায় হবে না—এ বিষয়ে প্রয়োজন কঠোর নগর পরিকল্পনা ও ভূমি ব্যবস্থাপনা ।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আবাসন শুধু একটি ঘর নির্মাণের বিষয় নয়। নিরাপদ বাসস্থান, যোগাযোগ, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খেলার জায়গা এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধাও এর সঙ্গে যুক্ত। ফলে সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করতে হলে আবাসন পরিকল্পনার সঙ্গে নাগরিক সেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নকে সমন্বিত করতে হবে।
বিশ্ব বসতি দিবস নগরায়ণের প্রবণতা, চ্যালেঞ্জ ও টেকসই সমাধান সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি উন্নত বসবাসের পরিবেশ ও জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করতে শহর ও নগরের ভবিষ্যৎ গঠনে সবার দায়িত্ব ও অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে।

ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রস্পেক্টস ২০২৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় এখন প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ বসবাস করছে।
২০০০ সালে ১ কোটি ৭৪ জনসংখ্যা নিয়ে ঢাকা ছিল বিশ্বের নবম জনবহুল নগর। ২৫ বছরের ব্যবধানে ঢাকা তালিকায় দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে। এ সময়ে ঢাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির বার্ষিক হার ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

ঢাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির এমন ধারা অব্যাহত থাকতে পারে আগামীতেও। ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রস্পেক্টসে আরও বলা হয়েছে, ২০৫০ সালে ঢাকা তালিকায় শীর্ষে উঠবে। তখন ঢাকা হবে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল নগরী। জনসংখ্যা হবে প্রায় ৫ কোটি ২১ লাখ।

নগরবিদদের মতে, ঢাকার ওপর আবাসনের চাপ কমাতে হলে শুধু আবাসন সরবরাহ বাড়ালেই হবে না, কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের সুযোগ দেশের অন্যান্য অঞ্চল ও শহরে ছড়িয়ে দিতে হবে। মানুষকে জীবিকা ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধার জন্য ঢাকামুখী হতে না হয়, সে ধরণের আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বাসস’কে বলেন, সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করতে ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়ন কমিয়ে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। চাকরি, শিল্প ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেশের বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে হবে। শহরের জনসংখ্যা ও প্রবৃদ্ধিও পরিকল্পিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

তিনি বলেন, সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের সক্ষমতা অনুযায়ী ছোট ও সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিট তৈরি করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি সব আবাসন প্রকল্পে তাদের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি ও আবাসনের ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।

ড. আদিল মুহাম্মদ খান আরও বলেন, আবাসন করতে গিয়ে কৃষিজমি, জলাশয় ও জলাভূমি ধ্বংস করা যাবে না। কোথায় আবাসন হবে, কোথায় হবে না—এ বিষয়ে কঠোর নগর পরিকল্পনা ও ভূমি ব্যবস্থাপনা দরকার। শুধু নতুন নতুন আবাসিক এলাকা তৈরি না করে বিদ্যমান শহরগুলোর পরিকল্পিত উন্নয়ন করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য আবাসনের সুযোগ বাড়াতে সরকারি নীতিতে তাদের প্রয়োজন ও সামর্থ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি আবাসন প্রকল্পেও নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য নির্দিষ্ট জমি ও আবাসন ইউনিট রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

বিশ্ব বসতি দিবসের লক্ষ্য মানুষের আবাসন ও বসবাসের পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা। বাংলাদেশের বাস্তবতায় দ্রুত নগরায়ণের চাপ মোকাবিলা করে সবার জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব নগরায়ণই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : প্রধানমন্ত্রী

১

সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিতের লক্ষ্যে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব বসতি দিবস

২

গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

৩

আগামী ইউপি নির্বাচনে মেম্বার পদপ্রার্থী হিসাবে দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশী শ্রী রতন শীল।

৪

সাংবাদিকদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের অন্যায় -অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহবান

৫

বিশ্ব বসতি দিবসের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

৬

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নাসির উদ্দিন শুভর বড় দুলাভাই মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার: পরিবারের উদ্বেগ

৭

স্ট্যাটাসকো অমান্য করে,অবৈধ সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকা মালিক কল্যাণ সমিতির সংবাদ সম্মেলন-ওয়াকফ এস্টেটের সদস্যদের তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ –

৮

চালচিত্র ২’-এ অপূর্ব নেই কেন? জবাব দিলেন নির্মাতা

৯

দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিল: ডিএসসিসি প্রশাসক

১০

সৌদি আরবে প্রবাসী নারী কর্মীদের মানবেতর জীবন দায় কার, সুরক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা কী?

১১

শিগগিরই আসছে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটি, আলোচনায় একাধিক নেতা

১২

সীমান্তে বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযান ১৯টি ককটেল সদৃশ বস্তু জব্দ

১৩

শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযান ১ জন আটক ও ৪০টি চোরাই মোবাইল উদ্ধার

১৪

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্তদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ

১৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬নং ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান

১৬

অসুস্থ আবু সাঈদ ও জাহাঙ্গীরের পাশে দাঁড়ালেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক কবির হোসেন

১৭

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সদর থানার অভিযানে ২ কেজি গাঁজাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

১৮

যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণ কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

১৯

ক্রীড়া কার্ডধারী খেলোয়াড়দের পরিবহন ও বীমা সুবিধা প্রদানে নীতিগত সিদ্ধান্ত: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

২০