জবি প্রতিনিধি:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে কেরানীগঞ্জে ৭ একর জমিতে ২০২৬ সালের মধ্যে ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা এবং আবাসন বৃত্তির বকেয়া টাকা দ্রুত পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে জকসুর নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের আবাসন সংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে মেস ও বাসাবাড়িতে থাকতে হচ্ছে। এতে তাদের অতিরিক্ত ব্যয়, নিরাপত্তাহীনতা ও নানা ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন নির্মাণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ সিয়াম বলেন, নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য হল ও আবাসন ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নানা সমস্যার মধ্যে থাকতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। তাই দ্রুত অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্যও স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করতে হবে।
জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন ও অধিকার নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। তিনি ২০২৬ সালের মধ্যে কেরানীগঞ্জের ৭ একর জমিতে ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসে বসে থেকে পুরান ঢাকার মেসে থাকা শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা সম্ভব নয়।’ এ সময় আবাসন বৃত্তির ৫৬ কোটি টাকার মধ্যে বাকি ৪৬ কোটি টাকা দ্রুত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের দাবি জানান তিনি।
জকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, শিক্ষার্থীদের মৌলিক দাবিগুলো পূরণ করা সম্ভব হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দেওয়া হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, এসব দাবি নিয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা হামলার শিকার হয়েছেন।
তিনি বলেন, চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে টাকা পাওয়ার পর প্রশাসন চাইলে তিন-চার মাসের মধ্যেই অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ করতে পারত। তাই চলতি বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
জকসুর এজিএস মাসুদ রানা বলেন, ‘আজ যে দাবির জন্য আমাদের মানববন্ধনে দাঁড়াতে হয়েছে, সেখানে দাঁড়ানোর কথা ছিল না।’ তিনি জানান, ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীরা সমস্যার সমাধান হবে বলে আশ্বস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনের অদক্ষতা, অকার্যকারিতা ও গড়িমসির কারণে আবারও আন্দোলনে নামতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রশাসনের ব্যর্থতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তিনি জানান, গত মে মাসের আন্দোলন ও লাঠিচার্জের প্রেক্ষাপটে আবাসন বৃত্তির জন্য ৫৬ কোটি টাকা বাজেট পাস হলেও এক বছর পেরিয়ে গেলেও বকেয়া টাকা শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।
মন্তব্য করুন