লিড নিউজ ২৪ আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের রাজধানী দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় ‘হস্টেল ডেজ’ নামের একটি পাঁচতলা ছাত্রাবাস (বয়েজ পিজি) ধসে পড়ে অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা ৩৪ মিনিটের দিকে সাউথ ক্যাম্পাস পুলিশ স্টেশনে প্রথম এই দুর্ঘটনার খবর আসে। রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় ঘটনার সময় বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই ভবনের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় দিল্লি ফায়ার সার্ভিস (ডিএফএস), এনডিআরএফ, দিল্লি পুলিশ, এমসিডি, ডিডিএমএ এবং সিভিল ডিফেন্সের একাধিক উদ্ধারকারী দল।
এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬-৭ জন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসের (এইমস) ট্রমা সেন্টারে স্থানান্তর করেছেন চিকিৎসকরা। সত্য নিকেতনের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও সরু গলির এলাকায় ভারী উদ্ধারযন্ত্র প্রবেশ করাতে বেশ বেগ পেতে হলেও, উদ্ধারকর্মীরা স্নিফার ডগ ও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, প্রশাসনের সব কটি সংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে।
ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মূল ভবনটি হুড়মুড় করে ধসে পড়ার সময় পাশের আরেকটি ভবনেরও আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীরা পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন এবং ঠিক কতজন আটকা পড়েছেন, তা হস্টেলের রেজিস্ট্রেশন রেকর্ড পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। উদ্ধার হওয়া অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন। এদিকে, দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে; অনেকেই খবর পেয়ে হাসপাতাল এলাকায় ভিড় জমাচ্ছেন। ভবনটি ঠিক কী কারণে ধসে পড়লো, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় অনেক পুরোনো ও নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্মিত ভবন রয়েছে, যেগুলো যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারির অভাবেই এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পর ভবনটির নির্মাণে কোনো গাফিলতি, অবৈধ সম্প্রসারণ বা কাঠামোগত দুর্বলতা ছিল কি না—তা উদ্ঘাটনে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হবে।
মন্তব্য করুন