স্টাফ রিপোর্টার।
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দরিদ্র এক কৃষকের বসতঘর ও তার শেষ সম্বল দুটি গরু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত রাতে উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টালিয়াপাড়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে সবকিছু হারিয়ে এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মতি মিয়া।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মতি মিয়ার বসতঘরে হঠাৎ করেই আগুনের সূত্রপাত হয়। গ্রামীণ পরিবেশ এবং শুষ্ক আবহাওয়া থাকার কারণে মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
চিৎকার শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আপ্রাণ চেষ্টা চালান। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, স্থানীয়রা তা নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই চোখের সামনে পুরো বসতঘর এবং সংলগ্ন গোয়ালঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এই অগ্নিকাণ্ডের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় ছিল গোয়ালঘরে থাকা দুটি গরুর মৃত্যু। আগুন এত দ্রুত ছড়িয়েছিল যে, গোয়ালঘর থেকে গবাদিপশু দুটিকে বের করার কোনো সুযোগই মেলেনি। জীবন্ত পুড়ে মারা যায় গরু দুটি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মতি মিয়া বলেন:
”এই গরু দুটিই ছিল আমার সংসারের আয়ের প্রধান অবলম্বন। দুধ বিক্রি আর চাষাবাদ করে কোনোমতে দিন পার করতাম। আগুনে আমার থাকার ঘর তো গেলই, সাধের গরু দুটাও শেষ হয়ে গেল। আমি এখন পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে, একেবারে রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছি।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আজ সকালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রতিবেশীরা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আকস্মিক এই বিপর্যয়ে পুরো পরিবারটি চরম মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে।
টালিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, মতি মিয়া অত্যন্ত দরিদ্র মানুষ। নিজের উপার্জনের একমাত্র মাধ্যমটি হারিয়ে তিনি এখন দিশেহারা। ক্ষতিগ্রস্ত এই পরিবারটিকে পুনরায় সোজা হয়ে দাঁড়াতে এবং তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জোর আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী
মন্তব্য করুন