প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)-এর ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানটি গতকাল এক ব্যতিক্রমী ও আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হলো। অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চে কেক কাটার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক মানবিক সিদ্ধান্ত উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করেছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটার জন্য তিন বাহিনীর প্রধান মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর দুপাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, হাতে ছুরি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যখন কেক কাটার জন্য প্রস্তুত, ঠিক তখনই তিনি আকস্মিকভাবে নিজের হাতের ইশারায় পিজিআর-এর এক সৈনিককে কিছু নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী আঙুল দিয়ে দর্শক সারিতে বসে থাকা এক বৃদ্ধা নারীকে দেখিয়ে তাকে মঞ্চে নিয়ে আসার অনুরোধ জানান।
হঠাৎ এমন ঘটনায় উপস্থিত অনেকেই কিছুটা বিভ্রান্ত হন। স্বয়ং সেনাপ্রধানকেও বেশ কৌতুহলী হয়ে তাকাতে দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা শামস সাহেব বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত ওই বৃদ্ধা নারীকে খুঁজে বের করার ব্যবস্থা করেন। পরে পিজিআর সদস্যের সহায়তায় ওই বৃদ্ধা নারী মঞ্চে এসে পৌঁছালে, প্রধানমন্ত্রী নিজে তাকে পাশে নিয়ে দাঁড়ান। সেনাপ্রধানসহ অন্য কর্মকর্তারাও তাকে যথাযথ সম্মান জানিয়ে জায়গা করে দেন।
মঞ্চে আনার পর ওই বৃদ্ধা নারীকে দিয়ে কেক কাটান প্রধানমন্ত্রী। কেক কাটা শেষে সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়ে পুনরায় তাকে আসনে বসিয়ে দেওয়া হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই বৃদ্ধা নারী হলেন
শহীদ আবু তাহের কেবল একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের ২ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার। একইসাথে তিনি ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অত্যন্ত বিশ্বস্ত দেহরক্ষী। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে যে রাতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়, সেই কালরাতে উনাকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এই বীর সৈনিক আবু তাহের।
তারেক রহমান তার বাবার সেই দেহরক্ষীর আত্মত্যাগ ও বিশ্বস্ততাকে ভুলে যাননি। দীর্ঘ এত বছর পরও শহীদ আবু তাহেরের পরিবারের প্রতি তার এই শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতাবোধ উপস্থিত সবার হৃদয়ে নাড়া দেয়। শহীদ আবু তাহেরের পত্নীকে সম্মানিত করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন, দেশের জন্য আত্মদানকারী এবং অনুগত মানুষদের ইতিহাস ও মর্যাদা তিনি হৃদয়ে ধারণ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও উপস্থিত বিশিষ্টজনদের মতে, ক্ষমতা ও মর্যাদার শীর্ষস্থানে থেকেও একজন সাধারণ সৈনিকের স্ত্রীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এই বিনয়, নম্রতা ও কৃতজ্ঞতাবোধ প্রকৃত ‘স্টেটসম্যান’ বা রাষ্ট্রনায়কোচিত আচরণের বহিঃপ্রকাশ। একজন নেতার এমন মানবিক ও সংবেদনশীল আচরণই তাকে সাধারণের চেয়ে আলাদা ও স্মরণীয় করে তোলে।
আপনার এই আবেগঘন মুহূর্তের বর্ণনাটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং হৃদয়স্পর্শী। একজন নেতার এমন আচরণের মাধ্যমে কি শহীদ পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলতার নতুন কোনো বার্তা দেওয়া সম্ভব বলে আপনি মনে করেন?
মন্তব্য করুন