ভারি বৃষ্টি ও ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেয়ায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেয়া হয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
এ ঘটনায় চরাঞ্চলের অন্তত ৭ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম।
তিনি জানান, ভারত গজলডোবা ব্যারেজের ৩২টি গেট খুলে দেয়ায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল সোমবার রাত ১১টার দিকে গজলডোবার গেটগুলো খুলে দেয়ার কারণে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উত্তরের চার জেলা রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় পানি প্রবেশ করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব বাসসকে বলেন, পানি বাড়ার সাথে সাথে উত্তরের চার জেলায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। গত ২৪ ঘণ্টায় এই চার জেলার ১৭টি ঘর-বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুর ৩টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৬ সেন্টিমিটার। যা বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তিস্তায় পানি বাড়ায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, সিঙ্গীমারি, ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি, একই জেলার কালীগঞ্জের শৈলমারী, চর বৈরাতী, রুদ্রেশ্বর, আদিতমারীর মহিষখোচা, গোবর্ধন ও স্পারবাধ, রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলা, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার চরাঞ্চলের নদীর তীরবর্তী চরে বাদাম ক্ষেত, ধানের বীজ তলা, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে করে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের কাশীরাম এলাকার বাদামচাষি লাকু মিয়া জানান, তিস্তার চরে তিনি ৫০ শতক জমি লিজ নিয়ে চিনা বাদাম চাষ করেছেন।
কয়েকদিন পানি জমে থাকায় বাদামে পচন ধরেছে এবং গাছ হলুদ হয়ে যাচ্ছে। এতে ফলন কমে যাওয়ার পাশাপাশি লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আরও কয়েকজন কৃষক জানান, রাতে পানি কমলে আবার সকালে পানি বাড়ে। পানি বাড়া-কমার কারণে দুশ্চিন্তায় আছি।
চলতি মৌসুমে আমন আবাদে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা অনেক বীজতলাও পানির কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে নতুন করে বীজতলা তৈরির প্রয়োজন হতে পারে।
রংপুরের চর চব্বিশ হাজারী গ্রামের কৃষক আনোয়ারুল হক বলেন, আজ সকাল থেকে টানা বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি আরও বাড়ছে। শুনছি ভারত পানি ছেড়ে দিয়েছে। পানি এভাবে বাড়তে থাকলে চরাঞ্চলের ধানের চারা, বাদাম ও মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হবে।
মহিপুর তিস্তার চর এলাকার কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, ঘর-বাড়িতে পানি উঠেছে। স্ত্রী-সন্তান ও গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে আছি।
চর রাজপুরের বাসিন্দা ঝন্টু মিয়া বলেন, গত দুদিন থেকে পানিবন্দী অবস্থায় আছি। চেয়ারম্যান মেম্বার কেউ কোনো খবর রাখেনি।
রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম বাসসকে বলেন, তিস্তার মধ্যবর্তী চরের কিছু পরিবার পানিবন্দী হয়ে আছে। চেয়ারম্যানদের তালিকা করতে বলা হয়েছে। তালিকা পেলেই শুকনো খাবার বিতরণ করা হবে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বাসসকে বলেন, বেলা ৩টার পর থেকে পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে বেলা বাড়ার সঙ্গে পানি আরও বাড়তে পারে।
মন্তব্য করুন