নিউজ ডেস্ক
৫০ minutes আগে
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ০ জন

সোনাগাজী সোয়াস এগ্রো কমপ্লেক্স, এক বাগানেই মিলছে শত জাতের আম

জেলার সোনাগাজী উপজেলার ‘সোনাগাজী সোয়াস এগ্রো কমপ্লেক্স’ শুধু একটি উদ্যোগ নয়। এটি একটি সাফল্য। যা আরও সম্ভাবনার পথ তৈরি করে। এই এগ্রো খামারে মিলছে শতাধিক জাতের আম। মিলছে নানা জাতের ফল, গাছের চারা। উন্নত জাতের মাছও।  এখানকার অনুপ্রেরণায় গড়ে উঠছে নতুন নতুন উদ্যোগ। গড়ে উঠছে নতুন খামার এবং নার্সারি।

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সাহাপুর এলাকার বাসিন্দা  মেজর (অব:) মো. সোলায়মান সোনাগাজীর উপকূলে গড়ে তুলেছেন বিশালাকার এই এগ্রো খামার ‘সোনাগাজী সোয়াস এগ্রো কমপ্লেক্স’।

১৯৮৬ সালে সেনাবাহিনীর মেজর হিসেবে অবসর নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে আম, কাঁঠাল, নারকেল, ড্রাগন, পেয়ারা, পেঁপে, কলা, মৎস্য চাষ, গবাদি পশু পালন, মধু, সরিষা উৎপাদন ও নার্সারিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদনে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ১৯৯২ সালে তিন লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে উপজেলার মুহুরী প্রকল্প এলাকায় মাত্র ৬ একর জমিতে পারিবারিক কৃষি খামার প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেন। ১৯৯৩ সালে একই খামারে গবাদিপশু পালনসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা উৎপাদনে নার্সারি প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সাথে বিশাল এক পুকুর খনন করে মৎস্য চাষ শুরু করেন। মৎস্য খামারের চার পাড়ে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে কয়েকটি জাতের আম গাছের চারা এনে লাগান। এরপর আর তাকে পেছন তাকাতে হয়নি।

৬ একরের খামারটি বর্তমানে ৭০ একর জায়গা জুড়ে বিশাল একটি সমন্বিত খামারে পরিণত হয়েছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সোনাগাজী সোয়াস এগ্রো কমপ্লেক্স’। উপজেলা সদর থেকে মাত্র ১০কিলোমিটার দক্ষিণে ভ্রমণপিপাসুদের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র মুহুরী প্রকল্পের পাশে এই খামার।

সরেজমিনে দেখা যায়, মধুরানী, কলাবতী, বারি-১১, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হিমসাগর, খিরসা, রুপালী, তোতাপুলি, আম্রপালি, হাঁড়ি ভাঙা, মরিয়ন, লুবনা, কাঁচামিঠা, কিউজাই, রেড পালমার, রেড তাইওয়ান, হানিডিও, নাম ডগমাই, সূর্যডিম, কাটিমন, থাইল্যান্ডের আম মিয়াংমাই, পৌরমতি, ক্যান্ট, ব্যানানাসহ রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, দিনাজপুর, রংপুরসহ দেশি-বিদেশি ১০২জাতের রং-বেরঙের আম ঝুলছে সোনাগাজী সোয়াস এগ্রো কমপ্লেক্সের বিশাল মৎস্য প্রকল্পের গাছগুলোতে । একেক জাতের আমের গঠন একেক রকম। কোনোটি গোলাকার আবার কোনোটি লম্বা। দেখে মনে হয়, এ যেন এক আমের রাজ্য। বাগান এলাকায় আমের মধুর ঘ্রাণে নানা প্রজাতির কীটপতঙ্গ ঘুরে বেড়াচ্ছে।

আম, মধু, সরিষা কিনতে এবং বাগানটি এক নজর দেখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি গাড়ি নিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে ভিড় করছেন।

আম ক্রেতা আফসানা আফ্রিন বাসসকে বলেন, মেজর (অব.) সোলায়মান প্রমাণ করেছেন আন্তরিক হয়ে যতœ নিলে যে কোনো জায়গায় রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, নওগা, রংপুর ও বিদেশি জাতের আম ফলানো সম্ভব।

সোনাগাজী সোয়াস এগ্রো কমপ্লেক্সে কর্মরত মাহীব গাজীর বাড়ি বরিশালে। তিনি দীর্ঘ ৪০বছর ধরে এই খামারে কাজ করছেন। তিনি জানান, খামারে মাছ চাষ, গবাদিপশু পালনের পাশপাশি কোনো ধরনের কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই বিষমুক্ত উপায়ে ফল ফলানো হয়। এছাড়া বাগানে আমের পাশাপাশি কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, পেয়ারা, নারকেল, ড্রাগন ফল, জামরুলসহ ওষুধি গাছের বাণিজ্যিক চাষও করা হয়েছে। বাগানে ৩৫ জন কর্মচারী স্থায়ীভাবে কর্মরত আছেন। এছাড়াও দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে আরও ২০জন শ্রমিক কাজ করছেন।

মেজর (অব.) মো. সোলায়মান জানান, তার সমন্বিত বাগানে প্রায় ১০ হাজার আমের গাছ আছে। এ বছর আরও এক হাজার চারাগাছ লাগাবেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রেতারা তার বাগানে এসে আমসহ বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছ কিনে নিয়ে যায়। ১৫ বছর ধরে তিনি বাগানের আম বিক্রি করছেন। বাংলা সনের বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় এই ৩ মাস তার বাগানে আম পাওয়া যায়। তবে বছরের অন্যান্য সময়েও বারোমাসি কয়েকটি জাতের আম বিক্রি করেন। গত দেড়মাসে তিনি ৩০ মেট্রিক টন (৩০ হাজার কেজি) আম বিক্রি করেছেন। এবার তার প্রায় ১০০ মেট্রিক টন আম বিক্রি করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এভাবে আরও কয়েক মাস আম বিক্রি করা হবে। বাগানে দেশি জাতের আমের বিক্রি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি জানান, এখন থাই জাতের আমসহ বিদেশি কয়েকটি জাতের আম পাকতে শুরু করেছে। এসব আম খুবই মিষ্টি ও সুস্বাদু। প্রতি কেজি একশ টাকা করে বিক্রি করলেও কিছু আম রয়েছে দেড়শ-দুইশ টাকা কেজিতে বিক্রি করেন। এছাড়া আফানসো, রুবি, দোসারি ও রাঙগুয়াইসহ আরও কয়েকটি জাতের বিদেশি আম ধরেছে বাগানে। মেজর সোলায়মান নিজে গবেষণা করে ১০টি আমের জাত উদ্ভাবন করেছেন। যার মধ্যে মধুরানী ও দিলরুবা উল্লেখযোগ্য। এ আমের ফলনও ভালো হয়েছে। এখন তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি ও সেতু নামে দুটি আমের জাত নিয়ে কাজ করছেন।

এই বাগানে উৎপাদিত আমে কোনো ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। শুধু আমের মুকুল আসার দুইমাস আগে পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনে একবার কীটনাশক ছিটানো হয়। এছাড়া গাছে ইউরিয়া সার দেওয়ার পরিবর্তে নিজের তৈরি করা জৈব সার ও কম্পোস্ট সার ব্যবহার করেন।

মেজর সোলায়মান বাসসকে বলেন, ‘আমার অবসর জীবন সার্থক হয়েছে। নিজে শ্রমিকদের সঙ্গে বাগান ও খামারে কাজ করি। তাই এখনও সুস্থ এবং সবল দেহের অধিকারী। আমার বাগান থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকার লোকজন এসে আমসহ বিভিন্ন গাছের চারা ও পরামর্শ নিয়ে বাগান তৈরি করেছেন। এই খামারে উৎপাদিত মধু, সরিষাসহ সব ধরনের ফল ও ফসল ভেজাল মুক্ত। ভবিষ্যতে খামারের পরিধি আরও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা আছে।’

সোনাগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাইন উদ্দিন আহমেদ বাসসকে বলেন, আমি বেশ কয়েকবার মেজর সোলায়মানের বাগান পরিদর্শন করেছি। এ বাগানে উৎপাদিত আমের গুণগত মান অনেক ভালো। বাগানটিও বেশ পরিচ্ছন্ন। তিনি দেশ-বিদেশ থেকে বিভিন্ন জাতের সুস্বাদু আমের জাত বাগানে লাগিয়ে সফল হয়েছেন।

জৈব সার দিয়ে এবং কীটনাশক ব্যবহার না করে তিনি আম ফলাচ্ছেন। তার সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেকে এখন উন্নত জাতের আমের বাগান করছেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ওপিসিডব্লিউ’র পরিদর্শক দলের চট্টগ্রাম ও জামালপুরে ৩টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন

ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারকে আধুনিক ও কার্যকর করতে কাজ চলছে : মির্জা ফখরুল

সোনাগাজী সোয়াস এগ্রো কমপ্লেক্স, এক বাগানেই মিলছে শত জাতের আম

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে দৈনিক পানির চাহিদা ৩২০-৩২৫ কোটি লিটার

মাতারবাড়ী সংযোগ সড়ক প্রকল্পে বালু উত্তোলনে অনিয়মের অভিযোগে হাইকোর্টে রিট

খুলনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ

সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানে দৈনিক বাংলা, টাইমস ও বিচিত্রা পুনরায় চালুর তাগিদ মির্জা ফখরুলের

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে সাবেক স্ত্রীর হাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন

ক্যালিফোর্নিয়ায় মার্কিন সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৮ জনের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব জেলেনস্কির

১০

দু’বার পিছিয়ে নিউজিল্যান্ডের সাথে ড্র করল ইরান

১১

সৌদি আরবের সাথে ড্র করল উরুগুয়ে

১২

জি-৭ সম্মেলনে ইউক্রেন ইস্যু প্রাধান্য পাবে

১৩

যুক্তরাষ্ট্রে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব জেলেনস্কির

১৪

ইন্দোনেশিয়ায় ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্প

১৫

নরসিংদীতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের কারখানাকে জরিমানা

১৬

৬ শিশু মৃত্যুর ঘটনায় শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছে আদ-দ্বীন হাসপাতাল : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

১৭

আত্মঘাতী গোলে বেলজিয়ামের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করল মিশর

১৮

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা চলছে

১৯

দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা, অপরিবর্তিত থাকতে পারে দিন-রাতের তাপমাত্রা

২০