অস্থির প্রস্তুতি ও হতাশাজনক সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের পর বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ডি’-তে যুক্তরাষ্ট্র নামছে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের চাপে। সাম্প্রতিক দুটি প্রীতি ম্যাচে ইউরোপের শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে তারা সহজেই পরাজিত হয়েছে।
মার্চে বেলজিয়ামের কাছে ৫-২ গোলের বড় ব্যবধানে হারের পর পর্তুগালের কাছেও ২-০ গোলে হার যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনোকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। যেখানে তিনি দলকে টুর্নামেন্টে অনেক দূর নিযয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন সেখানে বাস্তবতা মোটেই তার পক্ষে নেই।
২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন খেলোয়াড়কে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর পচেত্তিনো এখন প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্কের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে ইউরোপভিত্তিক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপরই ভরসা করছেন।
এসি মিলানের আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক, জুভেন্টাসের ওয়েস্টন ম্যাককেনি এবং বোর্নমাউথের টাইলার অ্যাডামস পচেত্তিনোর মূল আস্থার জায়গায় আছেন। এছাড়া মার্সেইর টিম ওয়েহা, মোনাকোর ফোলারিন বালোগুন এবং ফর্মে থাকা স্ট্রাইকার হাজি রাইটও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে। রাইটের গোলেই কভেন্ট্রি ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগে উন্নীত হয়েছে।
পচেত্তিনোর দল যদি গ্রুপ পর্ব পেরোতে না পারে, তবে সেটি বড় চমক হবে। গত বছর প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জয় যুক্তরাষ্ট্রকে আশাবাদী করে তুলেছে, এবারও তারা ২০১০, ২০১৪ ও ২০২২ সালের মতো শেষ ষোলোতে উঠতে চায়।
১২ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ^কাপ যাত্রা শুরু হবে।
দক্ষিণ আমেরিকার দল প্যারাগুয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরছে। বাছাইপর্বে তারা দারুণ খেলেছে এবং ব্রাজিল, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার সমান পয়েন্ট নিয়ে অভিযান শেষ করেছে।
আর্জেন্টাইন কোচ গুস্তাভো আলফারোর অধীনে প্যারাগুয়ে নতুন আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত। ২০২৪ কোপা আমেরিকায় একটি পয়েন্টও না পাওয়ার হতাশার পর আলফারো দায়িত্ব নেন। তার অধীনে প্যারাগুয়ে বাছাইপর্বে ৩৬ সম্ভাব্য পয়েন্টের মধ্যে ২৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করে এবং আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে হারানোর মতো উল্লেখযোগ্য সাফল্যও পায়।
গ্রুপের আরেক দল অস্ট্রেলিয়া টানা ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। এশিয়ার গ্রুপ ‘সি’-তে তারা জাপানের পিছনে দ্বিতীয় হয়েছে। বাছাইপর্ব চলাকালে গ্রাহাম আর্নল্ডের পরিবর্তে টনি পপোভিচ কোচের দায়িত্ব নেন এবং তার অধীনে দলটি সফল অভিযান চালায়। যার মধ্যে গত বছর জাপানের বিপক্ষে ১-০ গোলের গুরুত্বপূর্ণ জয়ও ছিল। অস্ট্রেলিয়া ২০২২ সালের দলের সাফল্য পুনরাবৃত্তি করতে চায়। সেবার তারা শেষ ষোলোতে উঠে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে কঠিন লড়াইয়ের মুখে ফেলেছিল, যদিও ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয় সকারুজদের।
ইউরোপীয় অঞ্চলের দল তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্নের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে। ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়ার পর টানা পাঁচটি আসরে ব্যর্থ হওয়া তুরস্ক ২৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপে ফিরছে।
ইতালিয়ান কোচ ভিনসেঞ্জো মন্টেলার অধীনে বাছাইপর্বে তুরস্ক মাত্র একটি ম্যাচে হেরেছে ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে। পরে রোমানিয়া ও কসোভোকে হারিয়ে প্লে-অফ পেরিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে।
ইন্টার মিলানের হাকান কালহানগ্লু মিডফিল্ডে এবং রিয়াল মাদ্রিদের প্রতিভাবান আরডা গুলার আক্রমণভাগে বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারেন।
মন্তব্য করুন