চলমান তীব্র তাপদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরের জনপদ রাজশাহীর স্বাভাবিক জনজীবন। বিশেষ করে তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরমে সব থেকে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল (মঙ্গলবার) রাজশাহীতে মৌসুমের অন্যতম উষ্ণতম দিন পার হয়েছে।
গতকাল এই জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৬৫ শতাংশ, যা ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ ।
এর আগের দিন অর্থাৎ সোমবারও আবহাওয়া পরিস্থিতি প্রায় একই রকম ছিল। এদিন রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
টানা দুই-তিনদিন একই ধরনের উচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করায় তাপপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা।
কাজে বা বিভিন্ন প্রয়োজনে দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকার ফলে হিটস্ট্রোক ও পানিবাহিত রোগী বাড়ছে। জ্বর, সর্দি-কাশিসহ গরমে অসুস্থ হয়ে পড়া রোগীদের সংখ্যাও বাড়ছে বলে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
মহানগর ও জেলার উপজেলাগুলোতে অব্যাহত এই তাপপ্রবাহে নাভিশ্বাস উঠেছে খেটে খাওয়া মানুষসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষেরও।
গত কয়েকদিন ধরেই সকাল থেকে বিকেল প্রায় সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত সূর্যের প্রখর রোদ থাকায় খেটে খাওয়া দিনমজুররা বেশি সময় ধরে মাঠে থাকতে পারছেন না।
তীব্র দাবদাহের কারণে দিনের বেলা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। এতে সব থেকে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ। কাঠফাটা রোদে তাদের আয়-রোজগারে ভাটা পড়েছে।
মো. রহিদুল নামের এক দিনমজুর বাসস’কে বলেন, কয়েকদিন ধরে প্রচুর গরম পড়ায় ব্যাপক সমস্যার মধ্যে আছি।
কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে, আবার কাজ না করলে পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া সম্ভব হবে না বলে যত কষ্টই হোক, কাজ করতে হচ্ছে।
রিকশাচালক সইমুর বলেন, তীব্র গরমে খুব কষ্ট হচ্ছে। কাজ ছাড়া লোকজন বাইরে বের হচ্ছেনা বলে আয়ও তেমন হচ্ছেনা।
শহরের মোড়ে মোড়ে তৃষ্ণা মেটানোর জন্য ডাব, তালের শাঁস ও শরবতের দোকানে ভীড় করছেন পেটের দায়ে গরম উপেক্ষা করে রাস্তায় নামা মানুষ।
চিকিৎসকরা বলছেন, প্রচন্ড গরমে অতিরিক্ত ঘাম নিঃসরণ হয় বলে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি, তরল খাবার ও প্রয়োজনে স্যালাইন পান করা জরুরি। সুস্থ থাকতে শিশু ও বয়স্কদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বের হতে, আরামদায়ক সুতি কাপড় পরিধান করতে এবং সহজপাচ্য ও তরল খাদ্য খাওয়াতে পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
রোদে বের হওয়ার ক্ষেত্রে ছাতা, টুপি ও রোদচশমা ব্যবহারের পাশাপাশি হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচতে সরাসরি কড়া রোদে বেশিক্ষণ অবস্থান না করার জন্যও বলা হয়েছে।
মন্তব্য করুন