হাফসা আক্তার :
রাজধানীর উত্তরার সেক্টর-১০ এলাকায় ভয়াবহ মাদক কিটামিন প্রস্তুতের একটি বিশাল ল্যাবের সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযান চালিয়ে তারা বিপুল পরিমাণ কিটামিন জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় ৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়, ঢাকার একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরার লায়লা গার্ডেন ভবনের সপ্তম তলায় এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের স্থান হিসেবে শনাক্ত করা হয়—লায়লা গার্ডেন, বাড়ি নং-২৯, রোড নং-১/এ, সেক্টর-১০, উত্তরা।
অভিযানকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, ওই বাসায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে কিটামিন প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। ঘটনাস্থল থেকে মাদক তৈরির সরঞ্জাম, রাসায়নিক দ্রব্য এবং প্রস্তুতকৃত ৬ কেজি কিটামিন জব্দ করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে এই মাদকের কাঁচামাল সরবরাহ করে এবং এগুলো বিভিন্ন খেলনার মাধ্যমে শ্রীলংকায় পাঠায়।
ডিএনসির কর্মকর্তারা আরো জানিয়েছেন, আটক বিদেশি নাগরিকদের পরিচয় যাচাই এবং তাদের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। একই সঙ্গে এই চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী কিটামিনের অবৈধ উৎপাদন, মজুদ ও সরবরাহ দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ডিএনসির উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান এবং সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে।
চেতনানাশক ও সেডেটিভ হিসেবে ব্যবহৃত এই মাদকটি বিশেষ ল্যাবের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এটির সঙ্গে চীনা কমিউনিটি এবং অন্যান্য দেশীয় ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তারা এখান থেকে এই মাদক বিদেশে পাচার করছে।
তদন্তে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে ছয় কেজি কিটামিন উদ্ধার করা হয়েছে।আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান,
কিছুদিন আগেও ছয় কেজি পরিমাণ কিটামিন জব্দ করা হয়েছিল, যা ইতালিতে পাঠানো হচ্ছিল। এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্তদেরও আটক করা হয়েছে।
প্রায় ৫০০টির অধিক উপকরণ ব্যবহার করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তরল পদার্থকে শুকিয়ে পাউডার আকারে রূপান্তর করা হয়। এরপর বিভিন্ন ধরনের সানবক্স, খেলনা এবং যন্ত্রপাতির মাধ্যমে বিশেষ কৌশলে এগুলো বিদেশে পাঠানো হয় বা সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া হয়।
গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তারা দীর্ঘদিন ধরে এখানে অবস্থান করে বিভিন্ন উপায়ে কাঁচামাল সংগ্রহ করে এই কিটামিন প্রস্তুত করছিল। একটি কক্ষকে সম্পূর্ণ ল্যাব হিসেবে গড়ে তুলে সেখানে বিভিন্ন যন্ত্রপাতির মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করে পরে তা নিজ নিজ দেশে পাচার করা হতো।
প্রাথমিকভাবে দোভাষীর মাধ্যমে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। এর আগে অন্য একটি কমিউনিটি এই কাজে জড়িত ছিল এবং বর্তমান চীনা নাগরিকরা গত তিন মাস ধরে এখানে সক্রিয় রয়েছে। তাদের সঙ্গে দেশের কোনো সংশ্লিষ্টতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ডিএনসি সুত্রে জানা যায়,
কিটামিন একটি উচ্চমূল্যের নিয়ন্ত্রিত মাদক,এর কার্যকারিতা ও তীব্রতা কোকেনের পর্যায়ের এবং দামও প্রায় কোকেনের সমান।
ডিএনসির অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) এই সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মন্তব্য করুন