রাজধানীর উত্তরায় ‘উত্তরা স্কয়ার শপিং কাম কমার্শিয়াল কমপ্লেক্সে’ ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় ১১ আসামিকে রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক মো. সুমন মিয়া আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- মো. মনির আলম (৩২), মো. মজিবর রহমান (২০), মো. হৃদয় (১৯), মো. মঞ্জুরুল (৩২), মো. মহব্বত আলী (১৮), শাহ পরান (১৯), মো. শাকিল (১৯), মো. রশিদুল ইসলাম ওরফে আ. রশিদ (২৭), মো. সাজু (২৪), মো. লিটন (২৪) ও জিহাদ (১৯)
সোমবার দিবাগত রাতে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শামীম এসব তথ্য জানান।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত রবিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ১৩ নং সেক্টরের সোনারগাঁও জনপদ রোডে ‘স্কয়ার শপিং কাম কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স’-এর সামনে এক রিকশাচালকের সঙ্গে দায়িত্বরত নিরাপত্তারক্ষীর বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে রিকশাচালক ও তার সঙ্গে থাকা আরও ১৫/২০ জন মিলে নিরাপত্তা রক্ষী ও শপিং কমপ্লেক্সের লোকজনের ওপর চড়াও হয়। তাদের এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে পড়লে ৬০০/৭০০ উত্তেজিত লোক লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে শপিং কমপ্লেক্সে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা কমপ্লেক্সের নিচতলা ও দোতলার গ্লাস ভাঙচুর করে। এসময় সুযোগ বুঝে আসামিরা শপিং কমপ্লেক্সের ভেতরে ‘খাজানা ভ্যারাইটিজ স্টোর’ থেকে ১০ লাখ টাকার মালামাল এবং ‘কেজেড’ ইমিটেশন জুয়েলারি দোকান থেকে ৫ লাখ টাকার গয়না লুট করে নিয়ে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে উত্তেজিত জনতা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপরও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং রাস্তায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে কমপ্লেক্সের প্রায় ৯ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
দীর্ঘ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও গ্যাস সেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনাস্থল থেকে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে। ওই ঘটনায় শপিং কমপ্লেক্সটির ইলেক্ট্রিশিয়ান আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।
মন্তব্য করুন