আন্তর্জাতিক ডেস্ক | লিড নিউজ ২৪
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নয়াদিল্লি। বুধবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার পথে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রসহ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র একাধিক সংসদ সদস্যকে বাধা দেয় দিল্লি পুলিশ। একপর্যায়ে রাহুলসহ কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়।
বুধবার বিরোধী জোটের সংসদ সদস্যরা বাসে করে যন্তর মন্তরের উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই তাদের বাস আটকে দেয় পুলিশ। পরে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনসহ অন্য নেতারা বাস থেকে নেমে সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে যন্তর মন্তরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ সময় সেখানে আগে থেকেই জড়ো হওয়া কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার (এনএসইউআই) কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। বিক্ষোভকারীরা কথিত ‘ভোট চুরি’র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন।
বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে এবং তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছে। এর প্রতিবাদে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন নারী সংসদ সদস্য রাস্তায় বসে ও শুয়ে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে পুলিশ রাহুল গান্ধী ও ডেরেক ও’ব্রায়েনসহ কয়েকজনকে আটক করে গাড়িতে তোলে।
তবে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, যন্তর মন্তর এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি থাকায় পূর্বানুমতি ছাড়া সেখানে জমায়েতের সুযোগ নেই। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই বিক্ষোভকারীদের সেখানে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বুধবারের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের আমন্ত্রণে মধ্য দিল্লিতে বৈঠকে বসেন বিরোধী জোটের নেতারা। সেখানেই নির্বাচন কমিশনবিরোধী আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর তারা একসঙ্গে বাসে করে যন্তর মন্তরের দিকে রওনা হন।
মূলত নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের সংঘাত তীব্র হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচন ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ যথাযথভাবে মোকাবিলা করছেন না প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এ কারণে তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট। তবে এসব অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান ভিন্ন।
একদিন আগেও একই দাবিতে দিল্লির রাজপথে নেমেছিলেন বিরোধী জোটের সংসদ সদস্যরা। মঙ্গলবার সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর ‘নির্বাচন সদন’-এর দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে মাঝপথে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। পরে সেখানেই অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন বিরোধী নেতারা।
সেদিন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আকাশবাণী ভবন এলাকায় দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা বিক্ষোভের পর রাতে তাদের আটক করে পুলিশ। পরে অবশ্য তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
টানা দুই দিনের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানীতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। বিরোধীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক লড়াই আগামী দিনগুলোতে আরও তীব্র হতে পারে।
মন্তব্য করুন